পুলিশ পরিচয়ে পুলিশ সদস্যদের পরিবারের টাকা আত্মসাৎ করে চক্রটি

আপডেট : ২০ মার্চ ২০২১, ০৮:৩৫ পিএম

পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা পরিচয়ে খোদ পুলিশ সদস্যদের পরিবারের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে প্রতারণা করে আসছে একটি চক্র। প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎসহ নানা সুবিধা নিচ্ছে তারা।

এ চক্রের হোতা মো. জাকির হোসেনকে (২৬) শুক্রবার রাতে রাজধানীর মগবাজার বিটিসিএল কলোনি থেকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ (ডিবি)।

এ সময় তার কাছ থেকে ৫০০ পিস ইয়ারাও উদ্ধার করা হয়। তার বিরুদ্ধে এর আগেও অস্ত্র, মাদক ও প্রতারণার ১১টি মামলা রয়েছে।

জানা গেছে, চক্রটি প্রথমে পুলিশের ডিআইজি বা এআইজি পরিচয় দিয়ে অন্য পুলিশ সদস্যদের ফোন করে তাদের সিম রেজিস্ট্রেশনের কথা বলে পরিবারের ফোন নম্বর সংগ্রহ করতো। ওই পুলিশ সদস্যের ফোন নম্বরটি কৌশলে ডাইভার্ট করে নিতো।

পরে তার পরিবারকে তাৎক্ষণিক ফোন করে কখনো বলতো ওই পুলিশ সদস্য দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। তার চিকিৎসায় জরুরি ভিত্তিতে টাকা প্রয়োজন। আবার কখনো বলতো নারী নিয়ে অবৈধ কাজ করতে গিয়ে ধরা পড়েছে পুলিশ সদস্য। বিষয়টি সুরাহা করতে টাকা লাগবে। পরিবার তখন ওই পুলিশ সদস্যকে ফোন করলে কল যেতো প্রতারকদের কাছে।

ডিবির ভাষ্য, চক্রের হোতা জাকির ডিআইজি মাসুদ ওরফে এআইজি মাসুদ আবার কখনো ইন্সপেক্টর মাসুদ, কখনো আবার অ্যাডভোকেট শাহপরান, কখনো ডাইরেক্টর হেদায়েত পরিচয় দিয়ে প্রতারণা করতো। সে একজন পেশাদার প্রতারক।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থানার চর ইসলামপুরে জাকিরের বাড়ি। দুর্গম এই এলাকায় বসবাস করে সে গত সাত থেকে আট বছর বিভিন্ন পরিচয়ে প্রতারণা করে আসছে। কনস্টেবল থেকে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত বিভিন্ন পদমর্যাদার সদস্য ও তার পরিবারকে ফোন করে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ, অবৈধ ও অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ, বিভাগীয় মামলার ভয়, চলমান মামলার দিকনির্দেশনা, নানা রকমের তদবির করে আসছিল।

গত বছরের ২৫ জুলাই চক্রের কবলে পড়েন পুলিশ পরিদর্শক অশীত কুমার মিত্র। তিনি প্রতারণার শিকার হয়ে নড়াইল সদর থানায় একটি জিডি করেন।

জিডি সূত্রে জানা গেছে, অশীত কুমার মিত্রের পরিবারের কাছ থেকে সড়ক দুর্ঘটনার কথা বলে ৩৮ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। এর আগে অশীত কুমার মিত্রের মোবাইল নম্বরটি ডাইভার্ট করে এর নিয়ন্ত্রণ নেয় তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, গ্রেপ্তার জাকির ২০১৬ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ৯টি পুলিশ পরিবারের সঙ্গে প্রতারণার মাধ্যমে হাতিয়ে নিয়েছে লাখ লাখ টাকা। এখন পর্যন্ত সে তিনবার জেল খেটেছে। জামিনে মুক্তি পেয়ে একই কাজ করছে। সে পুলিশের ব্যবহৃত ফোন নম্বরের সঙ্গে মিল রেখে সিম নম্বর কেনে।

এরপর ডিআইজি বা আইজি মাসুদ পরিচয়ে প্রথমে পুলিশের বিভিন্ন পর্যায়ের অফিসারদের ফোন করে। বিশেষ করে ইন্সপেক্টর লেভেলের অভিসারদের ফোন দিয়ে বলে আপনার ফোন নম্বর রেজিস্ট্রেশন করছি। এ জন্য পরিবারের দুটি ফোন নম্বর দেন। নম্বর নিয়ে ফোনে ##২১# এর পর চক্রটি তাদের একটি নম্বর দিয়ে ডায়াল করতে বলে।

ডায়াল করলেই ফোন নম্বরটি ডাইভার্ট হয়ে যায়। এর পর ওই পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ফোন করে বলে তিনি সড়ক দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। চক্রটি তখন দ্রুত টাকা পাঠাতে বলে।পরিবার ওই পুলিশ অফিসারকে ফোন করলে ফোনটি চলে যায় প্রতারক চক্রের কাছে।

এছাড়া চক্রটি টার্গেট করা পুলিশ সদস্যের পরিবারকে ফোন করে বলে তিনি মেয়ে নিয়ে ধরা পড়েছেন। থানায় আটক আছেন সুরাহা করতে টাকা লাগবে। আবার পদোন্নতির কথা বলেও টাকা হাতিয়ে নিয়েছে।  

ডিবি গুলশান জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মাহবুবুল হক সজীব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চক্রের একজনকে আমরা গ্রেপ্তার করেছি। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র ও প্রতারণার ১১টি মামলা রয়েছে। চক্রের অন্যদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের প্রতারণা থেকে বাঁচতে সচেতনতার বিকল্প নেই।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত