মিসিসিপির শ্বেতাঙ্গ আধিপত্য প্রধান আদালত যখন সাবরিনা স্মিথকে তার ৯ মাস বয়সী বাচ্চাকে পেটানোর অভিযোগে দন্ডিত করেছিল তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৭। সাবরিনার ভাষ্যে, ‘বিচারক বলেছিল, “আমরা তোমাকে ইনজেকশন প্রয়োগ করে মৃত্যুদন্ড দিচ্ছি। ঈশ্বর তোমার আত্মাকে শান্তি দিন।” ওই বিচারকের ব্যাপারে আমি শুধু এটাই বলতে পারি, ঈশ্বর তোমার আত্মাকে ক্ষমা করুন কারণ তুমি জানো না তুমি কী করেছ।’
বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানে শেষমেশ দেখা যায় সাবরিনা স্মিথের মেয়ে কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিল। তারপরও সাবরিনাকে ছয় বছর জেলে থাকতে হয়েছিল। এর মধ্যে তিন বছর তিনি ছিলেন মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি। অ্যাটর্নি ক্লাইভ স্টারফোর্ড এবং বেসরকারি একটি আইনি সংস্থা সাবরিনাকে সাহায্য করেছিল কারাগার থেকে মুক্ত হওয়ার ব্যাপারে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনবিষয়ক বিশেষজ্ঞরা ও আইনজীবীরা স্মিথের মামলাটিকে সামনে রেখে তাদের দেশের অপরাধী বিচার ব্যবস্থার দুর্বলতা ও ত্রুটির দিকগুলো তুলে ধরেন। বিশেষ করে কৃষ্ণাঙ্গ ও বাদামি মানুষগুলো বিচারের নামে যেভাবে হেনস্থা হয় তা রীতিমতো ভয়াবহ। ডেথ পেনাল্টি ইনফরমেশন সেন্টারের (ডিপিআইসি) করা এক গবেষণা বলছে, বিচারকদের মারফত মৃত্যুদন্ড পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশই ভুল বিচারের শিকার। বিচারব্যবস্থার ত্রুটি, ভুয়া দলিল ও প্রমাণের কারণে ৭০ দশমিক ৭ শতাংশ কৃষ্ণাঙ্গ এবং ৯৩ দশমিক ৮ শতাংশ লাতিন ভুল বিচারের শিকার হচ্ছেন। গত ফেব্রুয়ারিতে ডিপিআইসি জানায়, ১৯৭০ সাল থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ১৮৫ জনকে ভুলবশত মৃত্যুদন্ড দেওয়া হয়। এদের মধ্যে ৬৬ জন শ্বেতাঙ্গ পুরুষ, একজন শ্বেতাঙ্গ নারী, ১৬ জন লাতিন, একজন নেটিভ আমেরিকান, দুজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি, ৯৭ জন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ ও একজন কৃষ্ণাঙ্গ নারী রয়েছেন।
কোনো অপরাধ না করেও অনেকেই বন্দি হয়ে আছেন বছরের পর বছর। প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যেন বিচারব্যবস্থায় সংস্কার আনেন, এ মর্মে ইতিমধ্যেই কয়েকশ আইনজীবী আবেদন করেছেন। এ আইনজীবীরা প্রেসিডেন্টের কাছে বিতর্কিত মৃত্যুদন্ড ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানিয়েছেন। বাইডেন তার নির্বাচনী প্রচারণায় অপরাধী বিচারব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলেছিলেন। তিনিও মৃত্যুদন্ড ব্যবস্থা বাতিলের পক্ষে একাধিকবার কথা বলেছিলেন। এখন দেখার বিষয় ক্ষমতায় বসে বাইডেন সিনেট ও আইনজীবীদের চাপ অগ্রাহ্য করে বিচারব্যবস্থায় কতটা এবং কীভাবে সংস্কার আনেন।
