বিসিএস কেন্দ্রে পরীক্ষার্থীকে শাঁখা খুলতে বাধ্য করার অভিযোগ!

আপডেট : ২২ মার্চ ২০২১, ০৭:৫০ পিএম

চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কেন্দ্রে ৪১তম বিসিএস প্রিলিমিনারিতে অংশ নিতে আসা এক পরীক্ষার্থীকে শাঁখা খুলে কেন্দ্রে যেতে বাধ্য করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি রবিবার প্রতিবেদন দিলে ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর মোহাম্মদ ইলিয়াছকে অভিযুক্ত করা হয়।

ঘটনাটি সোমবার সকালে ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়লে অনেকে প্রতিবাদ জানান।

জানা গেছে, শুক্রবার (১৯ মার্চ) অনুষ্ঠিত বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিতে নগরীর নাসিরাবাদের ‘চট্টগ্রাম পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট’ পরীক্ষা কেন্দ্রে যান এক নারী। তাকে কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয় হাতে থাকা শাঁখার কারণে। ইনস্টিটিউটের ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর ইলিয়াস পরীক্ষার্থীকে শাঁখা নিয়ে কেন্দ্রে প্রবেশের নিয়মে নেই বলে জানিয়ে বাধা দেন।

পরীক্ষা শেষে ওই নারী তার পরিবারকে বিষয়টি জানান। তার আত্মীয় হাজী মুহম্মদ মহসীন কলেজের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সুবীর দাশ বলেন, ‘আমার আত্মীয়া বিসিএস দিতে গিয়ে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েন। আমি সেদিন ফোনে পলিটেকনিকের প্রিন্সিপাল স্বপন নাথকে জানাই বিষয়টি। তাকে হলে প্রবেশের আগে তল্লাশি করা হচ্ছিল, তখন তাকে শাঁখা খুলে রাখার জন্য বলে ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর ইলিয়াছ। কিন্তু আমার আত্মীয়া তাকে বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী হিসেবে বিবাহিত নারীদের স্বামী বেঁচে থাকা অবধি শাঁখা খুলতে পারেন না। তখন গেটে (ইনস্ট্রাক্টর) ক্ষেপে গিয়ে বকাবকি করতে থাকে।’

তিনি আরো বলেন, ‘নির্দেশনা ছিল মেটালিক কিছু নিয়ে প্রবেশ করা যাবে না। শাঁখা তো মেটালিক না। সনাতন ধর্মাবলম্বী বিবাহিত নারীদের শাঁখা থাকবেই। এটাই তো ধর্মীয় বিধান। তা ছাড়া পরীক্ষায় ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর দায়িত্ব দেওয়ারও নিয়ম নেই। আমি নিজে মহসীন কলেজে দায়িত্ব ছিলাম। পরীক্ষার হলে ছাত্রীদের অনুরোধ জানিয়ে বলেছি কোনোভাবেই যাতে কান ঢাকা না থাকে, এর কারণও ব্যাখ্যা করেছি যে, যাতে কেউ কোনো ধরনের ডিভাইস কানে রাখতে না পারে এই জন্য কান না ঢাকার জন্য নির্দেশনাটা।’

সহকারী অধ্যাপক সুবীর আরও বলেন, ‘সে (ওই নারী) সকাল ৮টা ৩৫ মিনিটে সেখানে পৌঁছান। তাকে শাঁখা নিয়ে তখন প্রবেশ করতে দিচ্ছিলেন না মোহাম্মদ ইলিয়াছ। কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয় শাঁখা পরে পরীক্ষার হলে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। একপর্যায়ে কান্নাকাটির করে হাত থেকে সে নিজে শাঁখা খুলতেই একটি শাঁখা ভেঙে যায়। সে তখন বলে উঠে, শাঁখা একটি ভেঙে গেছে, আরো একটি খোলাবেন? আপনারা এ রকম করছেন কেন? এরপর পরীক্ষা সময় হয়ে যাওয়ায় সে পরীক্ষা কেন্দ্রে চলে যায়। পরে পরীক্ষা দিয়ে এসে আমাদের জানালে আমি প্রিন্সিপালকে বিষয়টি জানাই।’

চট্টগ্রাম সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে। এ বিষয়ে অধ্যক্ষ স্বপন নাথ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিষয়টি আমরা জেনেছি। আমরা আসলে লজ্জিত। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত কেউ অভিযোগ করেনি। আমরা তাদের কাছ থেকে জেনে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছি। রবিবার (২১ মার্চ) তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়। আমরা অভিযুক্ত ইলিয়াছকে যে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়েছিলাম, তাকে সেই দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছি। তিনি ক্ষমা চেয়ে বলেছেন এটি তিনি বুঝতে পারেননি। এমনকি আমরাও পরীক্ষার্থীর পরিবারে কাছে ক্ষমা চেয়েছি।’

অধ্যক্ষ আরো বলেন, ‘কোনো নিয়মেই তো শাঁখা খুলে রাখার নির্দেশনা নেই। শাঁখা তো স্বর্ণালংকার না। ইলিয়াছের বুঝা উচিত ছিল যে এটি তো ধর্মীয় বিধান। আমরা ওই দায়িত্ব থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়েছি। যেহেতু তিনি এসব বুঝে না তাই তার দায়িত্বে থাকারও প্রয়োজন নেই।’

সুবীর দাশ বলেন, ‘তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে তো ওই ফিজিক্যাল ইনস্ট্রাক্টর দোষী সাব্যস্ত হয়েছে, তাকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে কিন্তু আমরা বলে,ছি শোকজের ব্যবস্থা করতে হবে। তার বিরুদ্ধে যাতে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেয়া হয়।’

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ ইলিয়াছের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত