সব নির্যাতনের অবসান হোক: বিএনপি নেতা আসলামের মেয়ের স্ট্যাটাস

আপডেট : ২৪ মার্চ ২০২১, ০৮:৫৬ পিএম

কারাবন্দী বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরীর মেয়ে তার ফেইসবুকে আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন। বাবার অনুপস্থিতিতে তিনি এবং তার মা সংকটের মধ্যে আছেন বলে ফেইসবুকে দাবি করেন আসলাম চৌধুরীর মেয়ে মেহরীন আনহার উজমা।

আসলাম চৌধুরী ২০১৬ সালে গ্রেপ্তার হন। গ্রেপ্তারের পর থেকে কারাগারে রয়েছেন তিনি। তার নিয়ে একমাত্র সন্তান মেহেরীন আনহার উজমা। ফেইসবুকে তার দেওয়া স্ট্যাটাস দেশ রূপান্তরের পাঠকদের জন্য স্ট্যাটাসটি হুবহু তুলে ধরা হল।  

আমার বাবা আসলাম চৌধুরী-

‘‘আমি প্রশান্ত মহাসাগরের নীল জলরাশি দেখিনি,

কখনো মাপতে যাইনি এর গভীরতাও,

কিন্তু দেখেছি আমার বাবাকে

যার হৃদয় এতটাই গভীর যে

তার অবুঝ সন্তান এই গভীরতায়

যেভাবে ইচ্ছে বিচরণ করতে পারি

সামুদ্রিক প্রাণীকুলের মতো”।

হ্যাঁ, আমি বর্তমান সময়ের সবচেয়ে বেশি নিগৃহীত রাজনৈতিক দল বিএনপি নেতা পাঁচ বছর ধরে মিথ্যা অভিযোগে কারাবন্দী এবং নির্যাতিত মো. আসলাম চৌধুরীর একমাত্র সন্তান। সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগে তিনি আজ আমার ছোট তিনজনের পরিবার এবং বাবার বৃহৎ পরিবার বিএনপি থেকে পাঁচ বছর ধরেই বিচ্ছিন্ন। অথচ নিজের ক্যারিয়ারে সম্পূর্ণ সফল। আমার বাবা আর্থিক কারণে নয়; কেবল নিজ এলাকা সীতাকুণ্ডের জনসাধারণের কল্যাণার্থে এবং বিএনপির প্রতি ভালোবাসার কারণেই রাজনীতিতে আসা তারা। বাবা একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট, চাকরি জীবনের শুরুতে বিসিএস কর্মকর্তাও ছিলেন। ব্যবসায়িক জীবনেও সফল ছিলেন আমার বাবা। পরবর্তীতে তিনি লায়ন্স ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে আমার বাবার সমস্ত ব্যক্তিগত এবং রাজনৈতিক অর্জন, সেই সঙ্গে আমার পরিবার ধ্বংসপ্রায়। ২০১২ সাল থেকে আমার বাবাকে বিভিন্ন মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার হতে হয়। এরপর ২০১৬ সালে আমার দেশপ্রেমিক বাবাকে সম্পূর্ণ বানোয়াট মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়, যার কোনো বিন্দু পরিমাণ সত্যতা নেই। বাবা নিজেও অনবরত কারাবন্দীত্বে শারীরিক এবং মানসিক নাজেহাল হয়ে অসুস্থ প্রায়। বাবার অনুপস্থিতিতে তার অর্জিত ব্যবসা-বাণিজ্যও ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গেছে। এ ছাড়া আমার মাকেও হতে হচ্ছে বিভিন্নভাবে নাজেহাল। বাবার অবর্তমানে মা আর আমি শুধু অন্ধকারই দেখছি চারদিকে। এত কিছুর পরেও আমার সাহসী বাবা পথভ্রষ্ট হননি, অন্যায়ের কাছে মাথানত করেননি। যে রাজনীতি সারা জীবনের অর্জিত জীবনকে ধ্বংস করে, পরিবারের সদস্যদের শারীরিক এবং মানসিক ক্ষতির কারণ হয়; কী দরকার সেই রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার? আপানারা যারা আজ মিথ্যা অভিযোগে, অযৌক্তিক কারণে বাবাকে গত পাঁচ বছর ধরে কারাবন্দী রেখেছেন, যার ফলে প্রতিনিয়ত আমি হচ্ছি বাবার স্নেহ থেকে বঞ্চিত, আপনাদেরও কি পরিবার নেই, সেই যন্ত্রণা কি আপনাদের অনুভবে আসে না? প্রসঙ্গত আমি বাবা মা’র একমাত্র সন্তান। ২০১৬ সালে বাবার গ্রেপ্তারের পরের দিন আমার ‘ও’ লেভেল পরীক্ষা ছিল। কী মানসিক কষ্ট নিয়ে আমি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছিলাম তা শুধু আমি উপলব্ধি করতে পারি। সেই ২০১২ সাল থেকে বাবা আমাদের কাছ থেকে দূরে। কেউ কি একবারের জন্যও ভেবে দেখেছেন পরিবারের এই ছোট্ট মেয়েটির কথা? আমার দিকে তাকিয়ে মা নীরবে কাঁদে। আমাকে দেওয়ার মতো সান্ত্বনা হয়তো মা’র ঝুলিতে ফুরিয়ে গেছে। আজ যারা নির্যাতনের ছড়ি ঘুরাচ্ছেন, মনে রাখবেন নিঃসন্দেহে সবার ওপরে একজন তো আছেনই; তিনি তো উত্তম বিচার কর্তা। ইনশা আল্লাহ আমি তার ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে আজ আমার বাবা এবং পরিবারের নির্যাতনের ভার সেই মহানের ওপরই অর্পণ করছি। তিনিই অবশ্যই এর বিচার করবেন। সব নির্যাতনের অবসান হোক। সহসা বাবা মুক্তি পাক। আর কোনো মিথ্যা মামলা নয়। আমি চাই আমাদের তিনজনের ছোট পরিবারটি আবার এক হোক।

বাবা তুমি ফিরে এসো, আমি আর মা প্রতি মুহূর্তেই তোমার অপেক্ষায়।

-একমাত্র সন্তানের আকুতি।’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত