হেফাজত ইসলামের ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতালে বাগেরহাটে কোনো প্রভাব পড়েনি। হেফাজতের কোনো নেতাকর্মীকে মাঠে দেখা যায়নি।
রবিবার সকালে দূরপাল্লার বাস ছেড়ে গেছে। বাগেরহাটের অভ্যন্তরীণ ১৬টি রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শহরের দোকানপাট খোলা রয়েছে। ভোর থেকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় বিশৃঙ্খলা এড়াতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর টহল জোরদার করা হয়েছে।
অন্যদিকে, হেফাজত ইসলামকে রাজপথে প্রতিহত করতে মাঠে নেমেছে আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন।
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন ভূঁইয়ার নেতৃত্বে শত শত দলীয় নেতাকর্মী সকাল থেকে বাগেরহাট-খুলনা মহাসড়কসহ বিভিন্ন এলাকায় মোটরসাইকেল মহড়া দিয়েছে।
এ সময় বাগেরহাট জেলা আওয়ামী যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার নাসির উদ্দিন, ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সরদার নাহিয়ান আল সুলতান ওশান, শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক খান আবু বক্কর সিদ্দিক সঙ্গে ছিলেন।
বাগেরহাট জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট হেমায়েত উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, বাগেরহাট জেলায় হরতালের নামে যাতে বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, সহিংসতা হতে না পারে সে জন্য আওয়ামী লীগ ও তার অঙ্গ সংগঠন সতর্ক রয়েছে। সকালে দলের কয়েকশ নেতাকর্মী আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ে জড়ো হয়।
আমরা ওই নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে বাগেরহাট শহরসহ মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে বেড়িয়েছি। শান্তিপ্রিয় জনগণের জানমালের ক্ষতি এড়াতেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি।
বাগেরহাট জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক সরদার নাসির উদ্দিন বলেন, বাগেরহাটের মানুষ শান্তিপ্রিয়। তারা কোন সংঘাত চায় না। হেফাজত ইসলাম যাতে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা করতে না পারে সে জন্য সকাল থেকে যুবলীগ মাঠে অবস্থান নিয়েছে। মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে পথসভা করা হয়েছে।
বাগেরহাট আন্তঃজেলা বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বাকি তালুকদার বলেন, হরতালে পরিবহন সেক্টরে কোনো প্রভাব পড়েনি। সকালে দূরপাল্লার বাস ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে। জেলার ১৬টি অভ্যন্তরীণ রুটে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে।
বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মীর মো. সাফিন মাহমুদ বলেন, হেফাজত ইসলামের ডাকা হরতালে যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য জেলাজুড়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে। মহাসড়কসহ জেলার গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় টহল বাড়ানো হয়েছে। জেলার কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি।
