নোয়াখালীতে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ

আপডেট : ২৮ মার্চ ২০২১, ০৩:৩২ পিএম

নোয়াখালী প্রাইম হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় যুবকের মৃত্যুর অভিযোগ পাওয়া গেছে। রবিবার ভোর সাড়ে ৫টায় হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।

এ মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতাল ভাঙচুর চালিয়েছেন আত্মীয়-স্বজন ও স্থানীয়রা। মৃত রোগী বিটন রহমান (৩০) কবিরহাট উপজেলার নতুন সাহাজিরহাটের উত্তমপুর লামছি গ্রামের আলহাজ্ব মফিজ মিয়ার ছেলে।

ঘটনার সংবাদ সংগ্রহে গেলে রবিবার দুপুরে সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালায় ওই হাসপাতালের মালিক পক্ষের লোকজন ও তাদের পেটুয়া বাহিনী।

এ সময় কলকাতা টিভির শরীফ খান, ঢাকা পোস্টের হাসিব আল আমিন ও বাংলা চ্যানেলের ইসমাইল হোসেন সংবাদ সংগ্রহ করতে গেলে তাদের ওপর চড়াও হয় তারা। এ সময় দায়িত্বরত সাংবাদিকদের মারধর ও লাঞ্ছিত করে এবং সাংবাদিকদের ব্যবহৃত ক্যামেরা, মোবাইল ভাঙচুর করা হয়।

নিহতের বড় বোন লাইলী বেগম বলেন, গতকাল বিকেল ৫টায় আমার ভাইয়ের মেরুদণ্ড অপারেশনের জন্য প্রাইম হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। প্রায় তিন ঘণ্টা অপারেশন হয়েছে বলে জানায় হাসপাতালের লোকজন।

রাত ১২টা বাজলেও ওরা জানায় আমার ভাইয়ের জ্ঞান ফিরে নাই। এরপর ভোর সাড়ে ৫টায় বলে, আমার ভাই নাকি মারা গেছে।

নিহতের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ডাক্তারের ভুল অপারেশনের কারণে আমার ভাই মারা গেছে।

অভিযুক্ত ডা. মো. ফরিদুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

কলকাতা টিভির নোয়াখালী প্রতিনিধি শরীফ খান বলেন, যখন হাসপাতালের লোকজন ও রোগীর লোকজন বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে তখন চিত্রধারণের সময় হাসপাতালের লোকজন আমার ওপর চড়াও হয়, মোবাইল ক্যামেরা কেড়ে নিয়ে ভেঙে ফেলে এবং মারধর ও অশ্লীল ভাষায় গালাগাল করে। উপস্থিত সাংবাদিকদের চাপে ভাঙা মুঠোফোনটি ফেরত দেয়।

হাসপাতালের এজিএম (ফিন্যান্স অ্যান্ড অ্যাডমিন) শিপন সেন সাংবাদিকদের কাছে রোগীর অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুর বিসয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় ক্ষমাও চান।

সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. শাহেদ উদ্দিন বলেন, পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক রয়েছে। রোগীর স্বজনরা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত