মিয়ানমারের অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার ব্যাখ্যা দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

আপডেট : ৩১ মার্চ ২০২১, ১১:৫৪ পিএম

মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনী দিবসে বাংলাদেশের প্রতিনিধির অংশ নেওয়ার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন।

বুধবার ডি-৮ সম্মেলন নিয়ে আয়োজিত এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের মুখোমুখি হয়ে ব্যাখ্যা দেন তিনি।

ড. মোমেন বলেন, মিয়ানমারের সশস্ত্র বাহিনীর অনুষ্ঠানে শুধু বাংলাদেশের ডিফেন্স অ্যাটাশে যাননি, সেখানে আরও ৮টি দেশের প্রতিনিধি অংশ নিয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘মিয়ানমারকে আমরা পর্যবেক্ষণে রেখেছি। তাদের একটি নিয়মিত অনুষ্ঠান ছিল। যেসব দেশে আমাদের ডিফেন্স অ্যাটাশে থাকেন তারা এগুলোতে অংশগ্রহণ করেন। শুধু উনি না, আরও আটটি দেশ গেছে।’

মোমেন বলেন, ‘যেসব দেশ সমালোচনা করছে এত দিন তারা ব্যবসা বন্ধ তো করেইনি, বরং যারা এখন বেশি সোচ্চার তাদের ব্যবসা এদের সঙ্গে ১৫ গুণ বেড়েছে। তারা এখন চাইছে সু চিকে আবার সরকারে নিয়ে আসার জন্য। আমরা সু চি সরকারের অবস্থান দেখেছি। আমরা সু চির জন্য রাস্তায় মিছিলও করেছি। রোহিঙ্গারা যখন কষ্টে ছিল তখন একজন লোকও তাদের পাশে দাঁড়ায়নি। এটি লজ্জার বিষয়। এখন আপনারা বড় বড় কথা বলছেন, হইচই করছেন। তাদের বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য টেকসই সমাধান সেটির ব্যবস্থা করতে।’

তিনি আরও বলেন, রোহিঙ্গারা ৩০ বছর ধরে নির্যাতিত, তারা স্কুলে যেতে পারে না, স্বাস্থ্যসেবা পায় না। কিন্তু এগুলো তাদের চোখে পড়ে না। এখন সরকার পরিবর্তন হয়েছে বলে চিৎকার শুরু করেছে।’

আগামী ৮ এপ্রিল থেকে ভার্চুয়ালি ১০ম ডি-৮ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে বলে জানান তিনি।

এবারের সম্মেলনের আয়োজক বাংলাদেশ এবং সভাপতি শেখ হাসিনা। করোনা মহামারি রোধে এটি ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ ১৯৯৭ সালে ডি-৮ এ যোগ দেয় এবং ১৯৯৯ সালে দ্বিতীয় ডি-৮ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য ‘পার্টনারশিপ ফর অ্যা ট্রান্সফরমেটিভ ওয়ার্ল্ড: হারনেসিং দ্যা পাওয়ার অব ইয়ুথ অ্যান্ড টেকনোলজি’।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সম্মেলনে ডি-৮ রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানরা ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তৃতা করবেন। এবারের শীর্ষ সম্মেলনে বর্তমান ডি-৮ চেয়ার তুরস্ক, বাংলাদেশকে ডি-৮ চেয়ারের দায়িত্ব হস্তান্তর করবে। স্বাগতিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ আগামী দুই বছর ডি-৮ এর চেয়ারের দায়িত্ব পালন করবে। দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনের প্রস্তুতিমূলক সভা হিসেবে ভার্চুয়াল মাধ্যমে আগামী ৭ এপ্রিল ১৯তম মন্ত্রী পর্যায়ের ডি-৮ কাউন্সিল এবং ৫-৬ এপ্রিল ডি-৮ কমিশনের ৪৩তম অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। ১৯তম মন্ত্রী পর্যায়ের কাউন্সিলে সভায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদল অংশগ্রহণ করবে।’

মন্ত্রী বলেন, দশম শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইনে ৫ এপ্রিল অনুষ্ঠেয় ‘ডি-৮ বিজনেস ফোরাম’ এ বাংলাদেশের এফবিসিসিআই, তুরস্কের দ্য ইউনিয়ন অব চেম্বারস অ্যান্ড কমোডিটি এক্সচেঞ্জ অব তুরস্ক- টিওবিবি-এর কাছ থেকে ডি-৮ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি ডি-৮ সিসিআই-এর সভাপতিত্ব গ্রহণ করবে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনের সাইডলাইন-এ ডি-৮ ভুক্ত দেশসমূহের যুব প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো ডি-৮ যুব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে। ভার্চুয়াল মাধ্যমে অনুষ্ঠিতব্য যুব সম্মেলনে ডি-৮ ভুক্ত দেশসমূহের যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীরা বক্তৃতা প্রদান করবেন। ডি-৮ ভুক্ত দেশসমূহ থেকে প্রায় দেড় শ যুব প্রতিনিধি সম্মেলনে যোগ দেবেন। দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলন উপলক্ষে d8dhaka.com নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করা হয়েছে, যেখানে আগামী দুই বছর বিভিন্ন তথ্যাদি আপলোড করা হবে।

ড. মোমেন আরও বলেন, চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং নতুন প্রযুক্তির সঙ্গে খাপ খাইয়ে ডি-৮ অন্তর্ভুক্ত দেশগুলোর যুব সম্প্রদায় যাতে তাদের সুপ্ত সম্ভাবনাকে সর্বোচ্চভাবে বিকশিত করে নিজ নিজ দেশের উন্নয়নে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে পারে, সে প্রত্যাশাকে সামনে রেখে সম্মেলনটির আয়োজক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ এবারের শীর্ষ সম্মেলনের প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করেছে।

তিনি বলেন, আসন্ন দশম ডি-৮ শীর্ষ সম্মেলনে ‘D-8 Decennial Roadmap for 2020-2030’ এবং ‘ঢাকা ঘোষণা-২০২১’ দলিলসমূহ গৃহীত হবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোডম্যাপ এবং ‘ঢাকা ঘোষণা ২০২১’ এর আওতাভুক্ত কার্যক্রম শীর্ষ সম্মেলন পরবর্তী বাংলাদেশের দুই বছরের সভাপতিত্বে বিশেষ গুরুত্ব বহন করবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত