কয়রায় চালবঞ্চিত প্রকৃত মৎস্যজীবীরা

জেলের পরিচয়পত্রধারী শিক্ষক ইউপি সদস্যসহ বিত্তবানরা

আপডেট : ০৬ এপ্রিল ২০২১, ১১:১৯ পিএম

খুলনার কয়রা উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য (মেম্বার) ওহিদ মোড়ল। ২০১৬ সালে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি ওয়ার্ড সদস্য নির্বাচিত হন। গত পাঁচ বছরে কখনো নদী বা সমুদ্রে মাছ শিকারে না গেলেও মৎস্যজীবীদের জন্য বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল তুলতে তিনি ভুল করেননি।

শুধু তিনি নন, তার অন্য দুই ভাইও জেলে পরিচয়পত্রধারী। এ জেলে তালিকায় আরও রয়েছেন প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, ব্যবসায়ী ও সম্পদশালীরা। তারা কখনো সমুদ্রে মাছ শিকারে যান না। ফলে প্রকৃত মৎস্যজীবীদের অনেকেই রয়েছেন তালিকার বাইরে। এতে তারা মৎস্য আহরণ করে জীবিকা নির্বাহ করলেও মাছ শিকারে সরকারি নিষেধাজ্ঞার সময়ে বরাদ্দকৃত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

উপজেলা মৎস্য কার্যালয়ের দেওয়া তথ্যমতে, কয়রা উপজেলায় সর্বশেষ ২০২০ সালের ১১ জুন ‘উপজেলা পর্যায়ে জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র কমিটি’র সর্বসম্মতিক্রমে আগের কার্ডধারী ১ হাজার ৯২ জনের মধ্যে ২৫ জনকে বাদ ও ৯৩৩ জনকে নতুন সংযুক্ত করে মহারাজপুর ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাঠানো তালিকার অনুমোদন দেওয়া হয়।

এদিকে আগের তালিকায় ৫৬৫ নম্বরে মহারাজপুরের ৩নং ওয়ার্ডের মেম্বার ওহিদ মোড়ল (জেলে আইডি-৭৬৮০২৮),  ৫৬২ নম্বরে তার ভাই নূর ইসলাম মোড়ল (জেলে আইডি-৭৬৮০৩৯), ৫৬৩ নম্বরে শরিফুল মোড়ল (জেলে আইডি- ৭৬৮০২৬) ও ৫৭৪ নম্বরে জামাল মোড়ল (জেলে আইডি-৬৯৬৮০০)-এর নাম রয়েছে। তাছাড়া তালিকায় অন্তর্ভুক্ত নতুন (যারা এখন জেলে পরিচয়পত্রধারী নয়) ও পুরাতন মিলে মোট ১ হাজার ৭৭০ জনকে উপজেলা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দুবার ভিজিএফের চাল দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে নতুন ৯৩৩ জনের অধিকাংশই জেলে পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত নয়।

এছাড়া ৮নং ওয়ার্ডের কার্ডধারী তিন ভাইয়ের একজন খলিলুর রহমান প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক। জমি রয়েছে ১২ বিঘার বেশি। তার মেজো ভাই আবদুল জলিল করেন ব্যবসা। তারপর বেশ জমি রয়েছে। একমাত্র ছেলে পুলিশের এসআই। একই অবস্থা ছোট ভাই আনিসুর রহমানের। তার ১৫ বিঘার মতো একটি ঘের রয়েছে। তাছাড়া বেড়ের খাল নামক একটি বড় খালে মাছ চাষ করেন। তিনি ওই ওয়ার্ডের ১০ টাকার চালের ডিলারও।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জেলে অভিযোগ করেন, ইউপি মেম্বার বা সংশ্লিষ্টদের কাছে গেলে টাকা চায়। টাকা না দিলে অথবা তাদের ঘনিষ্ঠজন না হলে জেলে কার্ড দেয় না। ইউপি সদস্য অহিদ মোড়ল বলেন, ৮-১০ বছর আগে মাছ ধরতাম। এখন ঘের করি।

বিষয়টি সম্পর্কে ‘উপজেলা পর্যায়ে জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র কমিটি’র সদস্য সচিব ও উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) এসএম আলাউদ্দিন বলেন, আমরা অভিযোগ পাওয়ার পর অমৎস্যজীবীদের বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়া চলমান।

উপজেলা জেলে নিবন্ধন ও পরিচয়পত্র কমিটির সভাপতি এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি যোগদানের আগে গেল বছরের ১১ জুন উপজেলা কমিটির সর্বসম্মতিক্রমে সর্বশেষ তালিকা হালনাগাদ করা হয়েছিল। অভিযোগের বিষয়টি অবগত হয়েছি। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত