খুনিদের দেশ নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ: প্রধান বিচারপতি

আপডেট : ১০ এপ্রিল ২০২১, ০৮:৩১ পিএম

সংবিধান অনুযায়ী উচ্চ আদালতের রায় কার্যকরে নির্বাহী বিভাগসহ সকলের ক্ষেত্রে বাধ্যবাধকতা থাকলেও তা কার্যকর না হওয়াকে দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেছেন, ‘রায় কার্যকরে রুল দিতে দিতে আমরা হয়রান। এর জন্য কেন বারবার রুল জারি করতে হবে?’

বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার ও যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বিশাল অর্জন উল্লেখ করে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘বাংলাদেশ কোনো খুনিদের দেশ নয়, এটি বঙ্গবন্ধুর সোনার দেশ।’

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও মুক্তিযুদ্ধের ওপর সুপ্রিম কোর্টের দুই  বিচারপতির লেখা দুটি গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শনিবার ভার্চুয়ালি এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান বিচারপতিসহ অন্য অতিথিরা।

‘বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশ একজন যুদ্ধ শিশুর গল্প ও অন্যান্য’ শীর্ষক গ্রন্থটি লিখেছেন আপিল বিভাগের বিচারপতি ওবায়দুল হাসান। এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু সংবিধান আইন আদালত ও অন্যান্য’ শীর্ষক বইটি লিখেছেন হাইকোর্টের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ইতিহাসবিদ মুনতাসীর মামুন গত এক দশকে উচ্চ আদালতের কিছু যুগান্তকারী রায়ের বিষয় উল্লেখ করে সেগুলো কতটা কার্যকর হয়েছে সে প্রশ্ন তোলেন। রায় কার্যকরের লক্ষ্যে একটি মনিটরিং সেল গঠনের পরামর্শ দেন তিনি।

বক্তব্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ‘সংবিধানের ১১২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের রায় কার্যকর করার জন্য দেশের নির্বাহী বিভাগসহ সকল ক্ষেত্রে সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেখানে কেন আমাদের কনটেম্পট (আদালত অবমাননা) রুল ইস্যু করতে হবে। তাই সেল করে রায় কার্যকর করা যাবে না।’

তিনি বলেন, ‘আমরা কনটেম্পট করে রায় কার্যকর করতে পারি। কিন্তু কনটেম্পট করে করেও আমরা হয়রান। এটি করেও যথাযথভাবে রায় কার্যকর যেভাবে হওয়ার কথা, সেভাবে হচ্ছে না। এটা এখন দুঃখের বিষয়।’

আলোচনায় বঙ্গবন্ধুর আত্মজীবনী ‘কারাগারের রোজনামচা’ বইয়ের উদ্ধৃতি দিয়ে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মোহাম্মদ ইমান আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু সেখানে বলেছেন- মার্শাল ল’ যখন চলছিল তখনো বিচার পেয়েছিলাম। আজকাল জামিনের কথা উঠলেই টেলিফোন বেজে উঠে।’

বিচারপতি ইমান আলী বলেন, ‘আমি  দুঃখিত। আজকাল টেলিফোন বাজারও দরকার হয় না। শুধু বলতে হয় অমুক স্যার এটাতে সম্পৃক্ত আছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, নতুন দেশ। জুডিসিয়াল সিস্টেমে পরিবর্তন দরকার। কিন্তু সেই পরিবর্তন কি এসেছে? পরিবর্তন নিশ্চয়ই এসেছে। কিন্তু কতটুকু ভালোর দিকে আমরা যেতে পেরেছি। আমাদের প্রায় ৪০ লাখ অনিষ্পন্ন মামলা।’

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন- সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, অ্যাটর্নি জেনারেল  এ কে এম আমিন উদ্দিন, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি মফিদুল হক, সাংবাদিক লেখক আনিসুল হক প্রমুখ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত