শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবি

নৌ মন্ত্রণালয়ের তদন্তে দায়ী কার্গোর বেপরোয়া গতি

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১:৩৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যায় লঞ্চডুবিতে ৩৪ জন নিহতের ঘটনায় কার্গোর বেপরোয়া গতিকে দায়ী করেছে নৌপরবিহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। মন্ত্রণালয়ের কমিটি এ সংক্রান্ত ২৭ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেছে। তাতে এমভি এসকেএল-৩ নামক পণ্যবাহী কার্গোর চালকের বেপরোয়া গতিকে দায়ী করা হয়েছে। একই সঙ্গে কয়লাঘাট এলাকায় নির্মাণাধীন সেতুটির নির্মাণ কার্যক্রমে ত্রুটির কথাও উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে। গত সোমবার জমা দেওয়া এই প্রতিবেদনে কয়েকটি সুপারিশও করেছে তদন্ত কমিটি।

গত ৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ লঞ্চ টার্মিনাল থেকে মুন্সীগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া এমএল সাবিত আল হাসান নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি এমভি এসকেএল-৩ কার্গোজাহাজের ধাক্কায় ডুবে যায়। ওই ঘটনায় প্রাণ হারান ৩৪ যাত্রী। লঞ্চডুবির এই ঘটনায় গঠিত নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন ও বিআইডব্লিউটিএ পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। সোমবার নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির নৌসচিব মোহাম্মদ মেজবাহ্ উদ্দীন চৌধুরীর কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি তাদের প্রতিবেদনে বলছে, পণ্যবাহী জাহাজটির বেপরোয়া গতি দুর্ঘটনার প্রধান কারণ। একই সঙ্গে শীতলক্ষ্যায় নির্মাণাধীন সেতুর পিলার নদীর মধ্যে স্থাপন করায় এবং নৌপথে প্রতিবন্ধকতামূলক নির্মাণসামগ্রী রাখায় নৌপথ সরু হয়ে যাওয়া দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ। তবে কার্গো জাহাজে প্রথম শ্রেণির সনদধারী চালক ছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। প্রতিবেদনে, সেতুর পিলার সরিয়ে নদীর প্রশস্ততা বাড়ানো, ছোট আকারের সানকেন ডেকবিশিষ্ট লঞ্চ ক্রমান্বয়ে সরিয়ে দেওয়া, অলস জাহাজ যততত্র পার্কিং বন্ধ করাসহ বেশ কয়েকটি সুপারিশ করা হয়েছে।

তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কার্গো জাহাজের চালকের বেপরোয়া গতি, অদক্ষতা ও অবহেলার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। এদিকে জাহাজটির রেজিস্ট্রেশন (নিবন্ধন) থাকলেও সার্ভে রিপোর্ট ছিল না বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। সার্ভে রিপোর্ট ছাড়া চলাচল করে অভ্যন্তরীণ নৌচলাচল অধ্যাদেশ-১৯৭৬ এর সংশ্লিষ্ট ধারা লঙ্ঘন করেছে জাহাজটি। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত