টিকা না নিলে চাকরিচ্যুতির হুমকি!

আপডেট : ১৬ এপ্রিল ২০২১, ১২:০১ এএম

করোনাভাইরাসের উৎসস্থল চীন কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে সংক্রমণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। তবে এখনো বিভিন্ন অঞ্চলে নতুন করে সংক্রমণের খবরও আসছে। এর মধ্যেই দেশটির সরকার দেশের বেশিরভাগ মানুষকে করোনার টিকা দেওয়ার মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটির দিকে হাঁটছে। ইতিমধ্যে দেশটিতে অন্তত ১৬ কোটি মানুষকে টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে সরকার। তবে অভিযোগ আছে, স্বেচ্ছায় যত মানুষ টিকা নিচ্ছেন তার চাইতে বেশি মানুষকে চাপে ফেলে টিকা নিতে বাধ্য করা হচ্ছে। অভিযোগ আছে, অনেক বেসরকারি প্রতিষ্ঠান চাকরিচ্যুতির ভয় দেখিয়ে টিকা নিতে বাধ্য করছে কর্মীদের। 

চীনা সংবাদমাধ্যমগুলোর খবর অনুসারে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত চীনে ১৬ কোটি মানুষকে করোনার টিকা দেওয়া হয়েছে, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার প্রায় ১১ শতাংশ। তবে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা খুবই কম। কারণ, সরকার চায় জুনের মধ্যে অন্তত ৫৬ কোটি মানুষকে টিকাদান নিশ্চিত করতে। তবে টিকার কার্যকারিতা আর কোন টিকা দেওয়া হচ্ছে তার সঠিক তথ্য না পাওয়ায় আগ্রহ হারাচ্ছে। 

এদিকে জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানাচ্ছে, উহানে গত কয়েক সপ্তাহে মানুষ লাইন ধরে টিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে অনেকে স্বেচ্ছায় টিকা নিয়েছেন। কিন্তু টিকা সংক্রান্ত তথ্য কঠোরভাবে গোপন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ আছে। লিন নামে এক ব্যক্তি ডয়েচে ভেলেকে বলেন, ‘অনেকে জানেন যে চীনের টিকা কিছু দেশ গ্রহণ করেছে, কিন্তু তারা কেউ জানে না টিকা কার্যক্রম শুরুর পর তা সংক্রমণ ঠেকাতে কতটা কার্যকার হয়েছে। উহানে সবাই সিনোফার্মের টিকা নিচ্ছে, তবে প্রতিবেশী শহরগুলোর কোনো কোনোটিতে সিনোভ্যাকের টিকা দেওয়া হচ্ছে।’

টিকার কার্যকারিতা নিয়ে অনেকের মনেই সন্দেহ আছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রের পরিচালক গাও ফু বলেছেন, করোনা প্রতিরোধে টিকার কার্যকারিতার হার বৃদ্ধির জন্য তারা কাজ করছেন। এক্ষেত্রে একটি উপায় হতে পারে বিভিন্ন টিকার মধ্যে মিশ্রণ ঘটানো। চীনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসকে পরে তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় তার বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করেছে। গাও ফু’র বক্তব্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ থেকে আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ দেশটি ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষকে টিকার আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত