বিখ্যাত ফ্যাশন হাউস গুচি’র প্রতিষ্ঠাতা পরিবারের গল্প নিয়ে নির্মিত ছবি ‘হাউস অব গুচি’তে অভিনয় করছেন লেডি গাগা। আর সেই ছবি নিয়ে উঠেছে ভীষণ আপত্তি। ধারণা করা হচ্ছে, বাস্তব খুনের ঘটনাকে জড়িয়ে এ পরিবারের গোপনীয়তা লঙ্ঘন হবে বড়পর্দায়।
হাউসটির প্রতিষ্ঠাতা গুচিও গুচির প্রপৌত্রী প্যাট্রিজিয়া গুচি অ্যাসোসিয়েট প্রেসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলছেন। তাদের আশঙ্কা হলিউড সিনেমার আয়ের উপকরণ হিসেবে তাদের পারিবারিক পরিচয় চুরি করা হয়েছে। তাদের পরিচিতি ও গোপনীয়তা আছে। এ বিষয়ে সব তারা বলেছেন। কিন্তু সবকিছুর একটা সীমানা আছে যা অতিক্রম করা যায় না।
গুচির সাবেক প্রধান মৌরিজিও গুচির হত্যার গল্প নিয়ে এ ছবি। ১৯৯৫ সালে মিলানের আততায়ীর হাতে নিহত হন তিনি। এর জন্য দায়ি করা হয় মৌরিজিও’র সাবেক স্ত্রী প্যাট্রিজিয়া রেজিগিনিকে। এ নারী ১৮ বছর জেল খেটে ২০১৬ সালে মুক্তি পান। দুটি চরিত্রে অভিনয় করছেন যথাক্রমে অ্যাডাম ড্রাইভার ও লেডি গাগা। রিডলি স্কট পরিচালিত ‘হাউস অব গুচি’ মুক্তি পাবে ২৪ নভেম্বর।
গুচিও গুচি’র প্রপৌত্রী প্যাট্রিজিয়া জানান, পরিচালক স্কটের স্ত্রীর সঙ্গে যোগাযোগ করেও কোনো উত্তর পাননি তিনি। যদিও ২০০০ সালের দিকে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিতে গুচির উত্থান নিয়ে আরেকটি ছবির সুবাদে যোগাযোগ করেছিলেন।
আরও বলেন, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ ছাড়াই এ ছবি তৈরি হচ্ছে। ‘হাউস অব গুচি’ দেখে তারা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবেন। তাদের ধরাণা, ভুল তথ্য দিয়ে লেখা ‘দ্য হাউস অব গুচি: আ সেনসেশনাল স্টোরি অব মার্ডার, ম্যাডনেস, গ্ল্যামার অ্যান্ড গ্রিড’ বই অবলম্বনে তৈরি হয়েছে এ ছবি।
ছবিতে গুচি পরিবারের দুই গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে আছেন আল পাচিনো ও জ্যারড লেটো। এ নিয়েও আপত্তি প্যাট্রিজিয়ার। বাস্তবের দুটি সুন্দর মানুষের সঙ্গে এ অভিনেতাদের কোনো মিলই নেই! যা অসম্মানজনক।
এর আগে জানুয়ারিতে লেডি গাগাকে নির্বাচন নিয়ে প্রশংসা করেন প্যাট্রিজিয়া রেজিগিনি। কিন্তু পরে তার সঙ্গে যোগাযোগ না করায় গায়িকা-অভিনেত্রীর সমালোচনা করেন। প্যাট্রিজিয়ার মতে, বাস্তব চরিত্র সম্পর্কে আরও জানতে ও সৌজন্যবশত গাগা উচিত ছিল তার সঙ্গে দেখা করা। তার জীবন নিয়ে নির্মিত এ ছবি থেকে একটা পয়সাও নিচ্ছেন না। গাগার উচিত ছিল তাকে সম্মান দেখানো।
গত মাস লেডি গাগা একটি ছবি পোস্ট করেন ইনস্টাগ্রামে। যেখানে তুষার-শোভিত পর্বতের আবহে অ্যাডাম ড্রাইভারের সঙ্গে তাকে দেখা যায়। আর ক্যাপশনে যা লেখেন তার ইংরেজি হলো ‘মিস্টার অ্যান্ড মিসেস গুচি’।
কম বয়সী এক তরুণীর সঙ্গে সম্পর্কের সূত্র ধরে মৌরিজিও ও প্যাট্রিজিয়া রেজিগিনির ছাড়াছাড়ি হয়। এ অপমান প্যাট্রিজিয়া ভুলতে পারেননি। পরে সাংবাদিকদের জানান, নিশানা খারাপ হতে পারে ভেবে তিনি নিজে গুলি করেননি।