কে এই অ্যানালিনা বায়েরবক

আপডেট : ১৯ এপ্রিল ২০২১, ১১:২৫ পিএম

জার্মানির গ্রিন পার্টির ইতিহাসে গত চার দশকে এবারই প্রথম তারা চ্যান্সেলর পদপ্রার্থী একজনের নাম প্রকাশ করেছে। আগামী সেপ্টেম্বরে জার্মানির সাধারণ নির্বাচনে গ্রিন পার্টি যে বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে তা এখনই আন্দাজ করা যাচ্ছে। কারণ, দেশটির অবিসংবাদিত নেতা অ্যাঙ্গেলা মেরকেল আর চ্যান্সেলর থাকছেন না। ফলে চ্যান্সেলর পদে কে আসছেন এ নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা। এর মধ্যেই গ্রিন পার্টি নাম ঘোষণা করেছে ৪০ বছর বয়সী অ্যানালিনা বায়েরবকের।

জার্মানির চ্যান্সেলর হওয়ার দৌড়ে এবার যে কজন প্রার্থী রয়েছেন তাদের মধ্যে একমাত্র নারী এই বায়েরবক। যেহেতু বলা হচ্ছে, জার্মানির আগামী সরকার গঠন করতে যাচ্ছে গ্রিন পার্টি। ফলে জার্মানির আগামী চ্যান্সেলর হওয়ার দৌড়েও স্বাভাবিকভাব এগিয়ে আছেন বায়েরবক। তাকে ইতিমধ্যেই নিউজিল্যান্ড ও ফিনল্যান্ডের নারী নেতৃত্বের সঙ্গে তুলনা করা হচ্ছে। ১৯৮০ সালে বায়েরবকের জন্ম। মজার বিষয় হলো, ওই একই বছরে গ্রিন পার্টি গঠিত হয়। শৈশব থেকেই রাজনৈতিক পরিবেশের মধ্যে বড় হয়েছেন তিনি। তারা বাবা-মা ছিলেন মধ্যবিত্ত রাজনৈতিক কর্মী।

সম্প্রতি এক জনমত জরিপ বলছে, আগামী নির্বাচনে গ্রিন পার্টি ২২ শতাংশ ভোট পেতে যাচ্ছে। এই পার্টির পরেই আছে অ্যাঙ্গেলা মেরকেলের পার্টি রক্ষণশীল সিডিইউ/সিএসইউ ব্লক। রক্ষণশীল এই ব্লকের ভোট আগের তুলনায় অনেক কমেছে। গত গ্রীষ্মের জরিপ বলছে, তাদের ভোট কমেছে ৪০ শতাংশ। মহামারী মোকাবিলায় জার্মানি বেশ সফলতা পেলেও দেশটির শরণার্থী নীতি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হিসেবে যে মেরুকরণ চলছে তাতে পিছিয়ে আছে মেরকেলের পার্টি।

জার্মান পুরুষ নেতার যখন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিজেদের ব্যবচ্ছেদে ব্যস্ত তখন গ্রিন পার্টি অনেক ভেবেচিন্তে এই নারী প্রার্থীকে দাঁড় করিয়েছে। একেবারে গত সোমবারের আগ পর্যন্ত বায়েরবকের নাম জানা যায়নি। ঐতিহ্যগতভাবে জার্মানির রক্ষণশীলরা অনেক বেশি নিয়মতান্ত্রিক। আর গ্রিন পার্টিতে ব্যাপক কোলাহল, নিয়মের বালাই নেই। কিন্তু সেই গ্রিন পার্টিই এবার সর্বোচ্চ নিয়মতান্ত্রিকতার পরিচয় দিচ্ছে।

বিশ্লেষকরা দেশটির ভোটারদের মনোভাব প্রসঙ্গে বলছেন, জার্মানির জনগণ ভোটের আগে বিভিন্ন পার্টির নেতাদের গুণবাচক দিকগুলো নিয়ে বেশি আলোচনা করলেও ভোটের দিন তারা দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির বিষয়টিই এগিয়ে রাখেন। এখন দেখার বিষয় চূড়ান্ত ভোটের দিন জার্মানির জনগণ রক্ষণশীল নাকি গ্রিনদের ভোট দিয়ে নেতৃত্বে আনেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত