হবিগঞ্জে আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন শীর্ষনেতার ‘দুর্নীতির খবর’ প্রকাশের জের ধরে স্থানীয় পত্রিকা ‘আমার হবিগঞ্জ’ সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্তের শ্বশুরবাড়িতে হামলা চালিয়ে লুটপাটের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
গত সোমবার হবিগঞ্জ পৌর মেয়র ও জেলা যুবলীগ সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে ছাত্রলীগ-যুবলীগ নেতাকর্মীরা এ হামলা চালায় বলে অভিযোগ করেছেন সুশান্ত দাশ গুপ্ত।
হবিগঞ্জ সদর থানার পুলিশ, ক্ষতিগ্রস্ত ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সম্প্রতি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ পত্রিকায় স্থানীয় এমপি আবু জাহির, হবিগঞ্জ পৌর মেয়র আতাউর রহমান সেলিমসহ বেশ কয়েকজন নেতার নানা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরই জের ধরে পত্রিকাটির বিরুদ্ধে সোমবার বিক্ষোভ মিছিলের ডাক দেওয়া হয়। ঘটনার দিন দুপুর ১২টার দিকে শহরের চিড়াকান্দি ও আশপাশ এলাকা ঘিরে রাখে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। এ এলাকার অধিকাংশে হিন্দু পরিবারের বসবাস। এতে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান নেয়। এর মধ্যেই দুপুর ১টার দিকে বিক্ষুব্ধরা পত্রিকার কার্যালয়ে ইটপাটকেল ছুড়ে মারে। একপর্যায়ে পুলিশের বেষ্টনী ভেঙে তারা পত্রিকা কার্যালয় সংলগ্ন ‘মঞ্জুরি ভবনে’ হামলা চালায়।
বাসার ভাড়াটিয়া পংকজ দেব রায় বলেন, ‘বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল মারা হয়েছে। পুলিশ থাকার পরও ভবনে ঢুকে সবকিছু লুটে নিয়ে গেছে।’
এ বিষয়ে পত্রিকাটির সম্পাদক সুশান্ত দাশ গুপ্ত বলেন, ‘হবিগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের এক শীর্ষনেতার নির্দেশে পৌরমেয়র ও জেলা যুবলীগের সভাপতি আতাউর রহমান সেলিমের নেতৃত্বে যুবলীগ-ছাত্রলীগের কর্মীরা আমার শ্বশুরের তিনতলা বাড়িতে রীতিমতো তাণ্ডব চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এমপি আবু জাহিরের দুর্নীতির খবর প্রকাশ করায় আমাকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে জেলও খাটতে হয়েছে। বাড়িতে হামলার পর সোমবার রাতে পত্রিকা না ছাপার জন্য প্রেসে এসে মারধর ও হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। ফলে গত দুই দিন বাইরে থেকে পত্রিকা ছাপাতে হচ্ছে।’
অভিযোগের বিষয়ে আতাউর রহমান সেলিম বলেন, ‘পত্রিকাটি হবিগঞ্জের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে তাদের সুনামহানি করছে। এরই জের ধরে বিক্ষুব্ধরা পত্রিকার কার্যালয়ের সামনে জড়ো হলে জনপ্রতিনিধি হিসেবে তাদের নিবৃত্ত করতে আমি সেখানে যাই। হ্যান্ডমাইকে রোজার দোহাই দিয়ে সংঘর্ষ থামানোর চেষ্টা করি। বিক্ষুব্ধ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের ফিরিয়ে না আনলে হয়তো খুনখারাবি হয়ে যেত। এখন আমাকেই দোষারোপ করা হচ্ছে।’
হবিগঞ্জ থানার ওসি মাসুক আলী জানান, পত্রিকায় বিভিন্ন সময় প্রকাশিত সংবাদের জের ধরে এ হামলার ঘটনা ঘটেছে। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্লাহ বলেন, ‘ঘটনার দিন পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে হামলাকারীরা পাশের একটি ভবনের ছাদে দিয়ে মঞ্জুরি ভবনে ঢুকে ভাঙচুর করে। ঘটনার তদন্ত চলছে। এখনো কোনো মামলা হয়নি। কাউকে আটকও করা হয়নি। সংঘর্ষে নিজেদের সদস্য আহত হওয়ায় পুলিশ মামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
