‘আওয়ামী লীগ সরকার নয়, দলের নেতারা জড়িত ইলিয়াস আলী গুমের জন্য’ দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসের এমন বক্তব্যের ব্যাখ্যা চেয়ে তাকে চিঠি দিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি মির্জা আব্বাসের কাছে সন্ধ্যের আগে পৌঁছান হয়েছে।
তবে দলের কোনো নেতা বিষয়টি নিশ্চিত করেনি।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি কিছু জানি না। সাংবাদিকদের কাছ থেকে শুনলাম বিষয়টা’।
তবে দলীয় সূত্র জানায়, এর আগে দলের ভাইস চেয়ারম্যান মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও শওকত মাহমুদকে দেওয়া শোকজের চিঠি নিজেরা পাওয়ার আগে মিডিয়ায় প্রকাশ পাওয়ায় দলের জ্যেষ্ঠ নেতাদের মধ্য ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। যে কারণে মির্জা আব্বাসকে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে এবার গোপনীয়তা রক্ষা করা হচ্ছে। দলের দপ্তরের দায়িত্বে থাকা ময়মনসিংহ বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্সসহ দপ্তর সংশ্লিষ্টরা গোপনীয়তা বজায় রাখছেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির একাধিক সদস্য দেশ রূপান্তরকে বলেন, ইলিয়াস আলী গুমসহ সারা দেশে বিএনপির অন্তত চার শতাধিক নেতাকর্মী গুমের পেছনে গত ১০ বছর ধরে দলীয়ভাবে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতিই অভিযোগ করা হয়েছে। অনেকটা হঠাৎ করে ‘নতুন তথ্য’ সামনে আনলেন মির্জা আব্বাস। দলের ‘পলিসি মেকার’ হিসেবে তার বক্তব্য বিগত দিনে দলের অবস্থানকেই প্রথমত অভিযুক্ত করা হয়েছে। দ্বিতীয়ত, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলো বরাবরই গুম-খুনের পেছনে বর্তমান সরকারকেই দায়ী করে আসছে। সেদিক থেকেও আন্তর্জাতিকভাবে বিএনপি সম্পর্কে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। সে কারণে মির্জা আব্বাসের অবস্থান বিএনপির দলীয় কোনো অবস্থান নয়, এই বার্তা দিতেই তাকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
যদিও গত শনিবার ভার্চ্যুয়াল সভার বক্তব্যের বিষয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হলে পরদিন রবিবার নিজের শাজাহানপুরের বাড়িতে সাংবাদিকদের ডেকে নিয়ে ইলিয়াস আলীকে নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেন মির্জা আব্বাস।
সেখানে তিনি দাবি করেন, সেখানে তিনি বলেন, তার সহজ-সরল মনের সরল উক্তিগুলো বিকৃত করে গণমাধ্যমগুলো যার যেখান থেকে প্রয়োজন কেটেছিঁড়ে ইচ্ছেমতো লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে।
