নবম-দশম শ্রেণি বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা

আপডেট : ২৩ এপ্রিল ২০২১, ১০:৩৮ পিএম

প্রথম অধ্যায় : ইতিহাস পরিচিতি

সৃজনশীল

সিদ্দিক সাহেব সরকারি উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা। সুযোগ পেলেই তিনি ছেলে রাজন এবং মেয়ে শ্রাবণীকে নিয়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে আবিষ্কৃত প্রতœতত্ত্ব নিদর্শন দেখাতে নিয়ে যান। ওরা সেসব স্থানে গিয়ে তালপাতায় লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা, বিভিন্ন বংশের রাজাদের জীবনসংবলিত পুস্তক দেখতে পায়। এ ছাড়া সিদ্দিক সাহেব অবসর সময়ে ছেলেমেয়ের সঙ্গে নিজ দেশের গৌরবময় ইতিহাস নিয়ে আলোচনা করেন। কারণ তিনি চান তার সন্তানরা নিজ দেশের প্রাচীন অবস্থা সম্পর্কে জানুক এবং জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে খাঁটি বাঙালি হয়ে গড়ে উঠুক।

ক. আধুনিক ইতিহাসের জনক কে?

খ. ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস বলতে কী বোঝায়?

গ. রাজন ও শ্রাবণীর দেখা প্রতœতত্ত্ব নিদর্শনগুলো ইতিহাসের কোন ধরনের উপাদান? ব্যাখ্যা করো।

ঘ. সিদ্দিক সাহেব রাজন এবং শ্রাবণীকে বলেন দেশ সম্পর্কে জানতে হলে ইতিহাসপাঠ অতীব জরুরি উক্তিটি বিশ্লেষণ করো।

উত্তর

ক. আধুনিক ইতিহাসের জনক জার্মান ঐতিহাসিক লিওপোল্ড ফন্ র‌্যাংকে।

খ. ইতিহাসের বিষয়বস্তুতে মানুষ, মানুষের সমাজ, সভ্যতা ও জীবনধারা, পরস্পর সম্পৃক্ত ও পরিপূরক। ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস বলতে ইতিহাসের পরিধিগত দিককে বোঝায়। ইতিহাসে স্থান পাওয়া বিষয়টি কোন প্রেক্ষাপটে স্থানীয়, জাতীয় না আন্তর্জাতিক। এভাবে ভৌগোলিক অবস্থানগত দিক থেকে শুধু বোঝার সুবিধার্থে ইতিহাসকে স্থানীয়রা আঞ্চলিক ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাস এই তিন ভাগে ভাগ করা হয়। সুতরাং ভৌগোলিক অবস্থানগত ইতিহাস হচ্ছে স্থানীয় ইতিহাস, জাতীয় ইতিহাস এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাস।

গ. রাজন ও শ্রাবণীর দেখা প্রত্নতত্ত্ব নিদর্শনগুলো ইতিহাসের লিখিত ও অলিখিত উপাদানের উদাহরণ। প্রাচীনকালের তালপাতায় লেখা পত্রিকা, সরকারি নির্দেশনামা, বিভিন্ন বংশের রাজাদের জীবন-সংবলিত পুস্তক ইত্যাদি ইতিহাসের লিখিত-অলিখিত উপাদানের অংশ। ইতিহাস রচনার উপাদান সাধারণত দুই ভাগে বিভক্ত। যেমন লিখিত উপাদান এবং অলিখিত উপাদান। লিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে সাহিত্য, জীবনী, বৈদেশিক কবি বরেণ্য ব্যক্তি, দলিলপত্র ইত্যাদি। অলিখিত উপাদানের মধ্যে রয়েছে মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত, স্মৃতিস্তম্ভ ইত্যাদি। ইতিহাসের লিখিত ও অলিখিত উপাদানের মাধ্যমে বিভিন্ন মানুষ এবং সমাজের ইতিহাস জানা সম্ভব। তবে প্রতœতাত্ত্বিক উপাদান মানবজীবনের অতীত অগ্রগতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দিতে পারে না। সে ক্ষেত্রে অবশ্যই লিখিত উৎপাদনের ওপর নির্ভর করতে হয়। লিখিত ও অলিখিত উপাদানের সমন্বয়ের মাধ্যমে অতীতের পূর্ণ প্রতিচ্ছবি নির্মাণ এবং এর মাধ্যমে মানুষের অতীত জীবনের ও সমাজ অগ্রগতির পূর্ণাঙ্গ ও বিস্তারিত ইতিহাস রচনা করা সম্ভব। সাধারণত জাদুঘরে ও মহাফেজখানায় ইতিহাসের উপাদান সংরক্ষিত থাকে।

ঘ. সিদ্দিক সাহেব ছেলে রাজন এবং মেয়ে শ্রাবণীকে বলেন দেশ সম্পর্কে জানতে হলে ইতিহাস পাঠ অতীব জরুরি বলে আমি মনে করি। ইতিহাস মানবজাতির পথপ্রদর্শক। দেশ ও জাতির স্বার্থে এবং ব্যক্তির প্রয়োজনে ইতিহাসপাঠ অত্যন্ত জরুরি। ইতিহাস জ্ঞান মানুষকে সচেতন করে তোলে। ইতিহাসের ব্যবহারিক গুরুত্ব অপরিসীম। জাতীয়তাবোধ এবং জাতীয় সংহতি সুদৃঢ়করণে ইতিহাসপাঠের বিকল্প নেই। জ্ঞানচর্চার শাখা হিসেবে ইতিহাসের গুরুত্ব অসীম। ইতিহাস হলো একমাত্র বিষয় যার মাধ্যমে একটি জাতির অগ্রগতির প্রতিফলন দেখা যায়। ইতিহাস দৃষ্টান্তের মাধ্যমে শিক্ষা দেয় বলে ইতিহাসকে বলা হয় শিক্ষার্থীর দর্পণ। ইতিহাসপাঠের মাধ্যমে আমরা মানবসমাজের যাবতীয় কর্মকাণ্ড, চিন্তা-চেতনা, জীবনযাত্রার অগ্রগতি, দেশের অগ্রগতি, সভ্যতার বিকাশ এবং উদ্ভব সম্পর্কে জানতে পারি। ইতিহাসের প্রধান উপজীব্য বিষয় হলো মানবসমাজের অগ্রগতির ধারা বর্ণনা তুলে ধরা। দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির স্বার্থেই ইতিহাস পাঠ করা প্রয়োজন। দেশ ও জাতিকে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছাতে ইতিহাস পাঠ করার প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম এবং সে দেশের ইতিহাসের দিকে নজর দিতে হবে। যেমন বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব। একমাত্র বাঙালি জাতির উৎপত্তি ও জাতির সৃষ্টির পরবর্তীকালে কীভাবে বিকশিত হয়েছে, সভ্যতার কোন পর্যায় থেকে উন্নতি লাভ করেছে এবং ওই পর্যায়সমূহের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক দিক দিয়ে কী রকম অবস্থান ছিল তার ওপর ভিত্তি করে জাতির কাক্সিক্ষত উন্নতির লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করে থাকে। সঠিক ইতিহাসের মাধ্যমে নিজ দেশের উন্নতি ও অগ্রগতির ধারাকে গতিশীল রাখা যায়। এ কারণে সিদ্দিক সাহেব মনে করেন তার ছেলেমেয়েরা নিজ দেশের প্রাচীন অবস্থা ও ইতিহাস সম্পর্কে জানুক এবং জ্ঞানে সমৃদ্ধ হয়ে খাঁটি বাঙালি হয়ে গড়ে উঠুক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত