করোনা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার অন্যতম অনুষঙ্গ হলো নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহ। কিন্তু প্রায় এক বছর আগে মৌলভীবাজার সদর হাসপাতালে রোগীদের জন্য ছয় হাজার লিটার ধারণক্ষমতার একটি সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা আজও বাস্তবায়ন হয়নি। এ প্ল্যান্টের কাজ মাত্র ২০ ভাগ শেষ হয়েছে এমন দাবি কর্তৃপক্ষের।
বর্তমানে স্থানীয়দের উদ্যোগে কেনা তিনটি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানুলা কেনা হয়েছে যা দিয়ে চলছে রোগীদের সেবা। যার জন্য অক্সিজেনের উচ্চমূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে রোগীদের। জানা যায়, করোনায় জেলায় সংক্রমণ ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মৌলভীবাজার হাসপাতালের চাহিদা অনুসারে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনুরোধে ইউনিসেফের অর্থায়নে হাসপাতালের ২৫০ শয্যায় অক্সিজেন সরবরাহ দেওয়ার জন্য গত বছর একটি অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ার পর দুই মাস আগে কাজ শুরু হয়। কিন্তু এখনো এর কাজ শেষ হয়নি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, আগামী দুই মাসে নির্মাণ শেষ হয়ে সেবা চালু হয়ে যাবে।
এ প্ল্যান্ট নির্মাণের দেখভাল ও অর্থায়ন করছে ইউনিসেফ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিসেফের সিলেট বিভাগীয় একাধিক কর্মকর্তা জানান, মৌলভীবাজার হাসপাতালে অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণের কাজ শুরু হয় প্রায় দুই মাস আগে। কিন্তু মাঝে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে লকডাউনের কারণে শ্রমিক সংকটে আবারও কমে গেছে কাজের গতি। তাই এ প্ল্যান্ট চালু হতে আরও তিন মাস লাগতে পারে।
এদিকে ইউনিসেফের সিলেট বিভাগীয় কর্মকর্তা ডা. মির্জা ফজলে এলাহী জানান, ইতিমধ্যে ২০ ভাগ কাজ হয়েছে। ছয় হাজার লিটারের এ প্ল্যান্ট নির্মাণে তারা অগ্রাধিকার দিয়ে দ্রুত কাজ শেষের চেষ্টা করছেন। এ প্ল্যান্ট নির্মাণ করছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেড।
হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক জানান, হাসপাতালে ভর্তি করোনা রোগীদের অধিকাংশেরই অক্সিজেন প্রয়োজন হচ্ছে। কিন্তু লিকুইড অক্সিজেন প্ল্যান্ট না থাকায় নিরবচ্ছিন্ন অক্সিজেন সরবরাহে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এতে ঝুঁকিতে পড়ছেন করোনায় আক্রান্ত রোগীরা।
এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্পেকট্রা অক্সিজেন লিমিটেডের জিডিএম মুখলেছুর রহমান রিপনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। যোগাযোগের জন্য কোম্পানির ওয়েবসাইটে দেওয়া নম্বরে যোগাযোগ করলে তারা সংবাদমাধ্যমকে এ ব্যাপারে কিছু বলতে অপারগতা জানান।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. পার্থসারথি দত্ত কানুনগো জানান, গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। কাজ চলছে, দুই মাসে শেষ হবে। বর্তমানে রোগীদের কোনো সমস্যা হচ্ছে না। ৫০টি অক্সিজেন সিলিন্ডার দিয়ে চিকিৎসা চলছে। প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা করা হবে।
