ব্যক্তি উদ্যোগে কর্মহীন ৮০০ পরিবারকে সহায়তা

আপডেট : ২৫ এপ্রিল ২০২১, ০৩:৩১ এএম

সত্তর বছরের বৃদ্ধা মিনু বেগম। থাকেন পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায়। নবীন বাংলাদেশ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের কার্ড নিয়ে লালবাগ হরনাথ ঘোষ সড়কে এসেছেন বিনামূল্যে ইফতার নিতে। তিনি বলেন, প্রথম রমজান থেকে শুরু করে প্রতিদিনিই এখানে খাবার দেয়। পোলাও-মাংস থেকে শুরু করে এখানের ‘সব খাওন ভালা দেয়’ বলে জানান এই বৃদ্ধা। শুধু মিনু বেগম একা নন, তার মতো আরও ৮০০-এর বেশি মানুষ দেখা গেল গতকাল শনিবার এই সড়কে কার্ড নিয়ে অপেক্ষা করছেন খাবার নেওয়ার জন্য।

জানা যায়, পুরান ঢাকার ব্যবসায়ী আনামুল হক নবীনের উদ্যোগে লালবাগ, চকবাজারসহ আশপাশের সুবিধাবঞ্চিত মানুষকে দুই বছর ধরে ইফতার করানো হয়। রমজানের আগেই এলাকায় ‘নবীন বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবীরা বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে ঘুরে ৮০০-এর মতো কার্ড বিলি করেন। পরে এই কার্ডগুলো নিয়ে এখানে এলেই সবাইকে খাবার দেওয়া হয়। এখানে না আসতে পারলেও যদি আগে থেকে জানানো হয় তাদের বাসায় গিয়েও খাবার পৌঁছে দেওয়া হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, ইফতারের এক ঘণ্টা বাকি থাকতেই দুই দিকের সড়কে দীর্ঘ লাইন। সবাই অপেক্ষা করছে খাবারের জন্য। সামাজিক দূরত্ব ও রাস্তায় যেন জ্যাম লেগে না থাকে, সে জন্য কাজ করছেন কয়েকজন যুবক। খাবার দেওয়া শুরু করতেই একজন করে আসছেন আর কার্ড দেখিয়ে সাইন করে খাবার দিয়ে দিচ্ছেন এখানকার দায়িত্বে থাকা স্বেচ্ছাসেবীরা।

এই এলাকার একাধিক বাসিন্দা দেশ রূপান্তরকে বলেন, পুরান ঢাকায় নবীনের থেকে আরও অনেক বড় ব্যবসায়ী আছেন। নবীনের মতো এভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে তেমনাটা কাউকে দাঁড়াতে দেখা যায় না; বিশেষ করে এই করোনায় যদি নবীনের মতো তারা (বড় ব্যবসায়ীরা) সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতেন, তাহলে সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলোর অনেক উপকার হতো বলে জানান বাসিন্দারা।

লালবাগে একটি জুতার কারখানায় কাজ করা হানিফ মিয়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে লকডাউনের জন্য কারখানায় তেমন কাজ নেই। দুই বছর আগেও এই সময় কারখানার কাজে ব্যস্ত থাকতাম। তথন কোথাও যাওয়ার সময়ও ছিল না। কিন্তু  এখন কাজ না থাকায় খুব অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তাই মালিককে বলে এখানে এসেছি নবীন ভাইয়ের মেহমান হয়ে কার্ড দেখিয়ে খাবার নিতে।’

এ বিষয়ে নবীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকার আনামুল হক নবীন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ব্যবসার লাভের অংশ দিয়ে প্রতি বছর রমজানজুড়ে ইফতারের আয়োজন করে থাকি। এই ইফতারে আমার মেহমান যারা এখানে কার্ড নিয়ে আসে, তাদের কার্ড দেখে এখান থেকে খাবার দেওয়া হয়। আর যারা আসতে না পারে, তাদের বাসায় গিয়ে আমাদের ভলেন্টিয়াররা খাবার পৌঁছে দেয়। ইফতার ছাড়াও ঈদের আগে কার্ডধারী সবাইকে ঈদের বাজারও বিতরণ করে থাকি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত