নরসিংদীতে পাঞ্জাবির বোতাম লাগানোকে কেন্দ্র করে বাগবিতণ্ডার জেরে টেইলার্সে হামলার সময় গুলিবিদ্ধ নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুস সালাম (৬০) মারা গেছেন। ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
এর আগে ১৫ এপ্রিল বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় সদর উপজেলার পাঁচদোনা বাজারে সোহাগ টেইলার্সে এ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হন।
নিহত আব্দুস সালাম সদর উপজেলার নেহাব গ্রামের বাসিন্দা ও পাঁচদোনা বাজারের মাইক্রো গ্রিন সিটি মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরী ছিলেন।
পুলিশ, আহত ব্যক্তি ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পাঞ্জাবির বোতাম লাগানোকে কেন্দ্র করে ১৫ এপ্রিল সন্ধ্যায় সোহাগ টেইলার্সের মালিক সিরাজ মিয়ার সঙ্গে পাঁচদোনা গ্রামের মাইন উদ্দিনের ছেলে জাহাঙ্গীরের কথাকাটাকাটি হয়। এ সময় জাহাঙ্গীর ও তার সহযোগীরা সিরাজকে মারধর করে। এ ঘটনার পর সিরাজ টেইলার্স বন্ধ করে বাসায় চলে গেলে বাজারের অন্যান্য ব্যবসায়ীরা তাকে দেখতে বাসায় যান এবং বিচারের আশ্বাস দেন। পরে সিসিটিভি ফুটেজ দেখে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার জন্য টেইলার্স মালিক সিরাজকে নিয়ে বাজারে আসেন ব্যবসায়ীসহ অন্যরা।
তারা জানান, এ সময় অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ও সাইদুর রহমানের ছেলে নূর আলমের (২১) নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ সন্ত্রাসী ‘আবার কেন দোকান খোলা হলো’ এমন অভিযোগে হামলা চালায়। এ সময় গুলিতে বাজারের মার্কেটের নিরাপত্তা প্রহরী আব্দুস সালাম গুলিবিদ্ধসহ চাপাতির কোপে আহত হন চারজন। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠালে চিকিৎসক গুলিবিদ্ধ নিরাপত্তা প্রহরীকে ঢাকা মেডিকেলে পাঠায়। সেখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মঙ্গলবার তার মৃত্যু হয়।
নিহত সালাম ভূইয়ার স্ত্রী আরজান বেগম বলেন, সামান্য পাঞ্জাবির বোতাম লাগানোর ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাধবদী পৌর মেয়র মোশাররফ হোসেন প্রধান মানিকের গাড়িচালক আলামিন ও তার সহযোগীরা আমার স্বামীকে গুলি করে। টানা ১২ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে মঙ্গলবার সকালে তিনি মারা গেছেন। ড্রাইভার আলামিন মেয়রের ব্যবহৃত গাড়ি থেকে নামার পর এ গুলির ঘটনা ঘটে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দুজ্জামান বলেন, এ ঘটনার পরই পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে একটি মামলা করেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ সালামের পরিবারের পক্ষ থেকে বড় ভাই নুরুল ইসলাম বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। ওই মামলাই এখন আইন অনুযায়ী হত্যা মামলায় পরিণত হবে। আর এ মামলায় আলামিনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। পরে আদালত তাদের জেলহাজতে প্রেরণ করে। এ ঘটনায় অস্ত্র অভিযান অব্যহত আছে। দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
