বাঘুটিয়া ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে শীতার্তদের কম্বল আত্মসাতের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ এপ্রিল ২০২১, ০৯:৫২ পিএম

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের আব্দুল কাহহার সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে শীতার্তদের বিতরণের জন্য সরকারি বরাদ্দের ৫১০ পিস কম্বল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। এ কম্বল বিতরণ কাজের ট্যাগ অফিসার ও চৌহালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান ১৩ এপ্রিল চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন।

এর প্রেক্ষিতে চৌহালী উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফসানা ইয়াসমিন গত ২১ এপ্রিল চৌহালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাসির আহমেদ খানকে আহ্বায়ক করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে।

কমিটি সোমবার (২৬ এপ্রিল) থেকে তদন্ত শুরু করেছে।

এ বিষয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা মো. মজনু মিয়া ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, একাধিকবার চিঠি দিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুল কাহ্হার সিদ্দিকীকে কম্বল বিতরণের মাস্টাররোল জমা দিতে বলা হয়েছে। কিন্তু এখনো তিনি তা জমা দেননি। ফলে ট্যাগ অফিসার মামুনুর রহমান উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেন। এর প্রেক্ষিতে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।

এ বিষয়ে অভিযোগকারী ট্যাগ অফিসার ও চৌহালী উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মামুনুর রহমান জানান, বাঘুটিয়া ইউনিয়নে চৌহালী উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগ থেকে সরকারের মানবিক কর্মসূচির আওতায় ২০২০ সালের ২৯ নভেম্বর ৩০০ পিস ও ২০২১ সালের ৩ জানুয়ারি ২১০ পিস কম্বল অসহায় শীতার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী বরাদ্দকৃত কম্বল ওই অফিস থেকে বুঝে নিয়ে তার ইউনিয়নের গুদামে মজুত রেখে ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে বিতরণের সরকারি নিয়ম থাকলেও তিনি তা করেননি। এমনকি ওই কম্বল বিতরণের মাস্টাররোল জমা দেননি। বারবার তাকে এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়া হলেও তিনি মাস্টাররোল জমা না দেওয়ায় তার বিরুদ্ধে নিয়ম অনুযায়ী এ অভিযোগ করা হয়।

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক ও চৌহালী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা নাসির আহমেদ খান জানান, তদন্ত কমিটির কাজ অব্যাহত রয়েছে। এটি শেষ হলে দ্রুত সময়ের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে জমা দেওয়া হবে। তার আগে তদন্তর স্বার্থে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করা যাবে না। 

এ বিষয়ে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুল কাহহার সিদ্দিকী বলেন, আমি কম্বল আত্মসাৎ করিনি। কম্বলগুলো যথাযথ নিয়মেই বিতরণ করা হয়েছে। এর মাস্টাররোলও রয়েছে। কিন্তু পিআইও আমার মাস্টাররোল জমা না নিয়ে আমার প্রতিপক্ষের লোকজনের প্ররোচনায় আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট ও ষড়যন্ত্র মূলকভাবে অভিযোগ দায়ের করেছে। গত ২৬ এপ্রিল তদন্ত কমিটি তদন্ত করতে এসেছিল। আমি তাদের কাছে কম্বল বিতরণের সব ডকুমেন্ট জমা দিয়েছি। আমি এ বিষয়ে সম্পূর্ণ নির্দোষ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত