চ্যাম্পিয়নস লিগের স্বপ্ন নিয়ে আরবের দুই ধনকুবের এলেন ইউরোপে। আরব আমিরাতের আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ ২০০৮ সালে কিনল ম্যানচেস্টার সিটি। তিন বছর পর কাতার স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্ট কিনল পিএসজিকে। কিন্তু নতুন মালিকানায় প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও চ্যাম্পিয়নস লিগের দেখা পাননি পিএসজির মালিক নাসের আল খেলাইফি ও ম্যানসিটির মালিক শেখ মনসুর। ম্যানসিটির সেরা সাফল্য বলতে গতবার সেমিফাইনালে খেলা। আর পিএসজি একধাপ এগিয়ে গতবারই প্রথম ফাইনাল খেলেছে। আবারও আশার বসতি গড়ে আজ মুখোমুখি দুই দল। এবারও যেকোনো এক দলকে বিদায় নিতে হবে। এ লড়াই শুধুই দুই ইউরোপিয়ান জায়ান্টের নয়। লড়াইয়ের উত্তপ্ত আমেজে এ যেন আবুধাবি বনাম কাতার লড়াই।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দু’দলের আগের দেখা হয়েছিল ২০১৬ কোয়ার্টার ফাইনালে। ওই লড়াইয়ে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-১ গোলে জিতেছিল ম্যানসিটি। নিজেদের মাঠে প্রথম লেগ ১-০তে জিতে পিএসজির মাঠে ২-২-এ ড্র করে সিটিজেনরা। সেবার খেলাইফি হেরে যান শেখ মনসুরের কাছে। এবার কে কাকে হারাবেন!
দু’দলই সাফল্য নিয়ে মহারণে নামছে। গত সপ্তাহান্তে লিগে-টুর্নামেন্টে নিজ নিজ ম্যাচ জিতেছে তারা। তবে পিএসজির চেয়ে সিটির জয় গুরুত্ব রাখে অনেক। ইংলিশ লিগ কাপে টটেনহ্যামকে ১-০তে হারিয়ে শিরোপা জেতে সিটি। মৌসুমে যা তাদের প্রথম শিরোপা। এদিকে ফরাসি জায়ান্টরা দুর্বল মেৎজকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে লিগে। প্রথম শিরোপাজয়ী সিটির আত্মবিশ্বাস একটু বেশিই থাকবে। তবে পিএসজির সামনে দারুণ রেকর্ডের হাতছানি। গতবারের রানার্সআপরা সিটিকে হারিয়ে দিলে চ্যাম্পিয়নস লিগ ইতিহাসে নবম দল হিসেবে পরপর দুই মৌসুমে ফাইনালে ওঠার কৃতিত্ব গড়বে।
দু’দিন আগেই ওয়েম্বলিতে টানা চতুর্থবার লিগ কাপ শিরোপা জেতার পরও পিএসজির সঙ্গে একটা ব্যাপারে পিছিয়ে থাকার কথা বলছেন কোচ পেপ গার্দিওলা। তার কথায় সিটি যত তারকানির্ভর দলই হোক না কেন, তার দলে ম্যাচউইনার নেই। তার ভরসা তাই দলের ভারসাম্যেÑ ‘দেখুন, আমার দলে কিন্তু রোনালদো, মেসি, নেইমার বা এমবাপে নেই যারা মুহূর্তেই তার দলের জন্য ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। তারা একেকজন ম্যাচউইনার। কিন্তু আমার যা আছে তা হলো ভারসাম্য। আমি দলে যতই পরিবর্তন আনি না কেন দলের ভারসাম্য কিন্তু নষ্ট হবে না। যখনই আমাদের দলের ফুটবলারদের ব্যাপারে জিজ্ঞাস করা হয়, আমি এ কথাই বলি। আমি কোনো একজন ফুটবলারকে নিয়ে কথা বলি না। আমি পুরো দল নিয়ে কথা বলি। সবাইকে বলি মাঠেই তাদের দেখে নেওয়ার জন্য। এই ম্যাচের আগেও একই কথা বলছি।’
গত মৌসুমে পিএসজিকে ফাইনালে তোলা কোচ টমাস টুখেল এবার নেই। তবে নতুন কোচ মরিসিও পচেত্তিনোর অধীনে হতাশ করেনি ফরাসিরা। বায়ার্নের কাছে গতবার শিরোপা হারানোর মধুর প্রতিশোধ নিয়ে সেমিফাইনালে উঠে এসেছে পিএসজি। এবার চেনা প্রতিপক্ষের সঙ্গে নামতে হচ্ছে পচেত্তিনোকে। পেপ গার্দিওলাকে খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই চেনেন আর্জেন্টাইন কোচ। তখন বার্সেলোনার গার্দিওলার সঙ্গে লড়েছেন এস্পানিওলের হয়ে। এরপর টটেনহ্যামের কোচ হয়ে লড়েছেন সিটির গার্দিওলার সঙ্গে। এবার নতুন করে দ্বৈরথে নামছেন। তার আগে গার্দিওলাকেই সেরা বললেন, ‘আমার কাছে সে-ই সেরা। অসাধারণ ফুটবল-মস্তিষ্ক। সময়ে সময়ে ম্যাচ পরিকল্পনা বদলে ফেলেন। আমার সব সময়ই তাকে চ্যালেঞ্জ জানাতে ভালো লাগে।’ নিজের তারকা ফুটবলারের প্রশংসায় পঞ্চমুখ তিনি, ‘নেইমারকে কোচিং করানো খুব সহজ। তাকে বিশেষ কিছু বলে দিতে হয় না। এমন তারকা দলে থাকলে কোচদের কাজ সহজ হয়।’ আর এই ম্যাচের আগে এমবাপে একটু ইনজুরিতে আছে তবে গুরুতর নয়। গতবার বায়ার্নের কাছে হারের স্মৃতি এবার ক্লাবের চালিকাশক্তি বলে জানান পচেত্তিনো। ভালো করার তাগিদটা ওই ব্যর্থতা থেকেই পাচ্ছে পিএসজি, ‘গত ফাইনালের অভিজ্ঞতা আমাদের আছে। তা থেকে শিক্ষা নিয়ে আমাদের এখন কী করতে হবে জানি। এখন আমাদের আরেকটি সেরা ক্লাবকে হারাতে হবে, যা সত্যিই খুব কঠিন।’
