চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের ছাত্রলীগের বিবদমান দুই গ্রুপের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও হাতাহাতির ঘটনার পরদিন গতকাল বুধবার ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি শুরু করেছেন। কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতির কারণে রোগীরা পড়েছে ভোগান্তিতে।
গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এবং রাতে দুই দফায় ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী ও চসিকের সাবেক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের মধ্যে হাতাহাতি ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেখানে সন্ধ্যার পর থেকে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
চমেক পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে প্রথমে ক্যাম্পাসের ক্যাফেতে দুই পক্ষ হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে এই ঘটনার মীমাংসা হলেও এরপর রাত ৯টার দিকে ফের ছাত্রলীগের বিবদমান দুই পক্ষের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এতে পাঁচজন আহত হন।
এদিকে, গতকাল সকাল থেকেই কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতি যায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এ বিষয়ে সমাধানের জন্য দুপুর ১২টায় চমেক হাসপাতালের পরিচালকের সভাকক্ষে জরুরি বৈঠকে বসে চমেক হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেখানে চমেক কর্তৃপক্ষ, পুলিশ এবং দুই পক্ষের নেতাকর্মীরাও ছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক তাদের দাবি আদায়ের আশ্বাস দিলেও দোষীদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে জানান ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।
এ বিষয়ে চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হুমায়ুন কবির বলেন, ‘ইন্টার্ন চিকিৎসকদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছি। আশা করছি তারা কাজে যোগদান করবে। আমরা তাদের বলেছি সিসিটিভির ফুটেজ দেখে দোষীদের বিরুদ্ধে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এজন্য আমরা কমিটি করেছি। তারা তদন্ত করছে। ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ফলে হাসপাতালে সমস্যা হচ্ছে না। আমাদের চিকিৎসকরা দায়িত্ব পালন করছেন। প্রত্যেক ওয়ার্ডেই চিকিৎসকরা রোগীদের সেবা দিচ্ছেন।’
এদিকে, চমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক ডা. ওসমান গণি ও সদস্য সচিব ডা. তাজওয়ার রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
