ভারত থেকে ধারণার বেশি বাংলাদেশি আসছে। তাদের সংখ্যা এত বেশি যে, বেনাপোলের হোটেলগুলোর পর এবার যশোর ও আশপাশের জেলার হোটেলগুলো অধিগ্রহণ করা হচ্ছে কোয়ারেন্টিনের জন্য।
জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, ‘ভারত থেকে যত লোক ফেরত আসার কথা আমরা চিন্তা করছিলাম, তার থেকে অনেক বেশি আসছে। বেনাপোলের হোটেলগুলো পূর্ণ হয়ে গেছে। ঝিকরগাছা উপজেলার গাজীর দরগাহ এতিমখানা ও মাদ্রাসার ভবনও পূর্ণ হয়ে গেছে। সেখানে ২০২ জনকে রাখা হয়েছে। যে কারণে এখন যশোর শহরের হোটেলগুলো রিকুইজিশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।’
তিনি জানান, হোটেলের মালিকরা ভারতফেরত বাংলাদেশি নাগরিকদের স্বল্প খরচে থাকার ব্যবস্থা করতে সম্মত হয়েছেন। এসব হোটেলে স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব ধরনের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান জেলা প্রশাসক।
নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) কেএম মামুনুর রশিদ জানান, এখন পর্যন্ত ১৬টি হোটেল রিকুইজিশন করা হয়েছে। এগুলো হলো শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরি, জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেল, হোটেল হাসান ইন্টারন্যাশনাল, হোটেল সিটি প্লাজা, হোটেল ম্যাগপাই, হোটেল আর এস, হোটেল মণিহার, হোটেল ম্যাক্স, হোটেল সোনালী, সিটি হোটেল, হোটেল শাহরিয়ার, হোটেল বলাকা, হোটেল নয়ন, হোটেল নিউ ওয়ে, হোটেল প্রিন্স, হোটেল সিটি এবং যশোর হোটেল। এগুলোর মধ্যে জাবির ইন্টারন্যাশনাল হোটেল পাঁচ তারকা মানের। শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের ডরমেটরি তিন তারকা মানের।
এনডিসি জানান, ইতিমধ্যে যশোরের হোটেল নয়নে ৩৭ জনকে, হাসান ইন্টারন্যাশনালে ৪৪, হোটেল ম্যাগপাইয়ে ১৭, আরএস হোটেলে সাত, হোটেল ম্যাক্সে ১১ এবং শেখ হাসিনা পার্কের ডরমেটরিতে ছয়জনকে রাখা হয়েছে।
এ হোটেলগুলোতে স্থান সংকুলান না হলে আশপাশের চার জেলার হোটেলগুলোতে কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। জেলাগুলো হল- সাতক্ষীরা, খুলনা, ঝিনাইদহ এবং নড়াইল।
শুক্রবার রাত ১১টায় যশোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সায়েমুজ্জামান জানান, ২৪০ জন বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে দেশে ফিরেছেন। এর সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। বৃহস্পতিবার এ সংখ্যা ছিল ২০১ জন।
জেলা প্রশাসন ধারণা করছে এর সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যাবে।
এদিকে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সেখ সালাউদ্দিন শিকদার জানান, যেসব স্থানে ভারতফেরত যাত্রীদের রাখা হয়েছে সেখানে নিরাপত্তার জন্য ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। ১৪ দিন অবস্থানের পর করোনা নেগেটিভ সনদ প্রাপ্তিসাপেক্ষে এসব যাত্রীকে নিজ বাড়িতে যেতে দেওয়া হবে।
