জাল নোট তৈরির কারখানায় দুই ইঞ্জিনিয়ারসহ গ্রেপ্তার ৪

আপডেট : ০৩ মে ২০২১, ০৬:৩০ এএম

কামরাঙ্গীরচর থানাধীন নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাল টাকা তৈরির একটি মিনি কারখানার সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা গুলশান বিভাগ (ডিবি)। ওই কারখানায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তারা হলেন, জীবন, পিয়াস, ইমাম হোসেন ও ভিদে।

গ্রেপ্তারদের মধ্যে দুজন ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার। তাদের কাছ থেকে তৈরিকৃত ৪৬ লাখ জাল টাকা ও জাল টাকা তৈরির বিপুল সামগ্রী উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবি গুলশান বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার (ডিসি) মশিউর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, লকডাউন একটা সহনশীল পর্যায়ে চলার কারণে রাজধানীরসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় বিপণিবিতান দোকানপাট খুলে দেওয়া হয়েছে। এতে ক্রমান্বয়ে ক্রেতা সাধারণের ভিড় বাড়ায় জাল টাকা তৈরি করার কাজগুলো জোরেশোরে শুরু করেছে। প্রথমদিকে তারা সাভারের জ্ঞানদা এলাকায় জাল টাকা তৈরি করতে থাকলেও ঈদকে কেন্দ্র করে তারা কামরাঙ্গীরচরে জাল টাকা তৈরির ব্যবসা শুরু করেছে গত তিন মাস ধরে। গ্রেপ্তার জীবন ইতিপূর্বেও জাল টাকা তৈরির সঙ্গে জড়িত থাকার কারণে একাধিকবার জেল খেটেছে। গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি ল্যাপটপ, দুটি প্রিন্টার, হিট মেশিন, বিভিন্ন ধরনের স্ক্রিন, ডাইস, জাল টাকার নিরাপত্তা সুতা, বিভিন্ন ধরনের কালি, আঠা এবং স্কেল কাটারসহ আরও অনেক সামগ্রী যা দিয়ে আরও কম করে হলেও দেড় কোটি জাল টাকা তৈরি করা সম্ভব হতো।

ডিসি মশিউর রহমান আরও জানান, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের মধ্যে পিয়াস ও ইমাম হোসেন বরিশাল পলিটেকনিক্যাল থেকে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ারিং ও কম্পিউটার সায়েন্স বিষয়ে ডিপ্লোমা অর্জন করেছেন। ইতিপূর্বে তিনি গ্রামীণফোনে নেটওয়ার্ক ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। গ্রেপ্তারকৃত অপর আসামি ভিদে বরিশাল সরকারি পলিটেকনিক্যাল কলেজ থেকে পাওয়ার এর উপরে ডিপ্লোমা করেছেন। বেশি টাকা প্রাপ্তির লোভে তিনিও বৈধ চাকরি ছেড়ে দিয়ে জাল টাকা তৈরির অবৈধ কাজে যোগ দেন। এই ২ ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারের তৈরি জাল টাকার কোয়ালিটি যথেষ্ট উন্নত। আসন্ন ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহাকে লক্ষ্য করে জাল টাকা তৈরি করার বড় ধরনের পরিকল্পনা ছিল তাদের। আসামিদের বিরুদ্ধে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত