করোনাভাইরাসের টিকা পেতে যুক্তরাষ্ট্রকে চিঠি দিয়েছে সরকার। চিঠিতে বলা হয়েছে, অনুদান অথবা অর্থের বিনিময়ে বাংলাদেশ তাদের থেকে টিকা চায়। গত সপ্তাহে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এই চিঠির বিষয়ে এখনো কিছু স্পষ্ট করেনি যুক্তরাষ্ট্র।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ এই টিকা পেতে সব রকমের চেষ্টা অব্যাহত রাখবে। এ নিয়ে ৫ম উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চাইল বাংলাদেশ।
গত ৯ জানুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি জো বাইডেনের জলবায়ুবিষয়ক বিশেষ দূত জন কেরি বাংলাদেশ সফর করেন। তখন তিনি বলেছিলেন, ‘বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ভ্যাকসিন উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। ১০০ মিলিয়ন মার্কিন নাগরিকের টিকা নেওয়া হলে তা অন্যান্য দেশে পাঠানো হবে।’
গত ২ মে দেশটির গণমাধ্যম সিএনএন’এর খবরে বলা হয়, ইতিমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০০ মিলিয়ন জনগণ করোনার ভ্যাকসিন গ্রহণ করেছে।
এ বিষয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন মঙ্গলবার গণমাধ্যমকে জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রের কাছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৬ কোটি ডোজ টিকা রয়েছে। আমরা বলেছি, তোমরা অনুদান হিসেবে আমাদের দাও, যদি তা না হয় তোমরা চাইলে আমরা কিনে নিতেও রাজি আছি। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) এখনও আমাদের চিঠির জবাব দেয়নি। আমরা চেষ্টা করছি, যুক্তরাষ্ট্র থেকেও যেন ভ্যাকসিন পাই।’
ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রস্তুত করা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৩ কোটি ডোজ টিকা পাওয়ার কথা ছিল। বাংলাদেশের ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো ফার্মার মধ্যস্থতায় এ টিকা পাওয়ার কথা ছিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত জানুয়ারি মাসে প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা দেয় সেরাম। এরপরের চালানে ২০ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে। এর বাইরে সেরাম আর কোন টিকা দেয়নি। এ ছাড়া উপহার হিসেবে আরো ৩২ লাখ ডোজ টিকা দিয়েছে ভারত সরকার। সব মিলে সেরামের প্রস্তুত করা ১ কোটি ২ লাখ ডোজ টিকা পেয়েছে বাংলাদেশ।
গত ২৭ জানুয়ারি থেকে বাংলাদেশে এই টিকা প্রয়োগও শুরু হয়। সেরাম টিকা না দেওয়ায় সরকারের সহায়তা চায় বেক্সিমকো। তবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, তারা দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলেছেন। তারা বলছেন, একটু সময় লাগলেও বাংলাদেশ টিকা পাবে।
এদিকে টিকার সংকটের কারণে প্রথম ডোজ টিকার কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সরকার। বিকল্প উৎস হিসেবে রাশিয়া ও চীনের টিকার ইতিমধ্যে অনুমোদনও দিয়েছে ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর। বাংলাদেশেই টিকা প্রস্তুতের জন্য ইনসেপ্টা ফার্মা, পপুলার ফর্মা ও হেলথ কেয়ার ফার্মা রাশিয়ার সঙ্গে আলাপ চালিয়ে যাচ্ছে।
চলতি মাসের মধ্যেই রাশিয়ার তৈরি ৪০ লাখ ডোজ টিকা বাংলাদেশে আসার কথা রয়েছে। চীন ইতোমধ্যে ৫ লাখ ডোজ টিকা উপহার হিসেবে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। আগামী ১০ মে’র মধ্যে এই টিকা বাংলাদেশে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ ছাড়া গ্লোবাল ভ্যাকসিন নেটওয়ার্ক বা কোভ্যাক্স অনুদান হিসেবে বাংলাদেশকে কিছু টিকা দেবে। এর বাইরে ৫ম উৎস হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে টিকা চাইল বাংলাদেশ।
