সিরাজগঞ্জে হত্যারহস্য উদঘাটন পিবিআইয়ের

যৌন হেনস্তার জের ধরে নূরকে খুন করে ফারুক

আপডেট : ০৫ মে ২০২১, ০৭:১৮ এএম

সিরাজগঞ্জের বেলকুচি উপজেলার ধুকুরিয়া বেড়া গ্রামের তাঁতশ্রমিক নূর ইসলামের (৪৮) মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে জেলা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

সংস্থাটি বলেছে, যৌন হেনস্তার জের ধরে ওমর ফারুক (২৫) নামে এক ব্যক্তি নূর ইসলামকে গলা টিপে হত্যার পর লাশ বরই গাছে ঝুলিয়ে রাখেন।

অথচ প্রায় তিন বছর আগের ওই ঘটনার ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন এবং আদালতে পুলিশের দাখিল করা অভিযোগপত্রে নূর ইসলাম আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

গত সোমবার সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার নিজ কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার মো. রেজাউল করিম এ হত্যা রহস্য উদঘাটনের বিস্তারিত জানান।

তিনি জানান, ২০১৮ সালের ২৮ জুন নূর ইসলামের লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী মনো বেগম বাদী হয়ে ওমর ফারুক ও তার পরিবারের চারজনের নামে হত্যা মামলা করেন। সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা জেনারেল হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ ময়নাতদন্ত শেষে এটিকে আত্মহত্যা উল্লেখ করেন। এরপর মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আব্দুল আলীম তদন্ত শেষে একই কারণ উল্লেখ করে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে তিনজনের নামে অভিযোগপত্র দাখিল করেন।

তবে বাদীর নারাজি আবেদনে মামলাটি পুনঃতদন্তের দায়িত্ব পায় সিরাজগঞ্জ পিবিআই। গত ১ এপ্রিল মামলার প্রধান আসামি ওমর ফারুক আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। এরপর পিবিআই তাকে দুদিনের রিমান্ডে নিলে এক পর্যায়ে ওমর ফারুক এ হত্যার দায় স্বীকার করেন।

পুলিশ সুপার রেজাউল করিম বলেন, ‘ফারুক এ হত্যার কারণ হিসেবে বলেছেন, নূর ইসলাম তাকে দিয়ে জোর করে যৌনসঙ্গম করাতেন। ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে গলাটিপে হত্যা করেন।’

সংবাদ সম্মেলনে হাজির ওমর ফারুক বলেন, ‘নূর ইসলাম আমাকে টাঙ্গাইলে তাঁতশ্রমিকের কাজ দেন। দুজন এক খাটে ঘুমাতাম। এ সুযোগ নিয়েই নূর ইসলাম আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক গড়ে তোলেন। এক পর্যায়ে বিয়ের প্রস্তাব দিলে বিব্রতবোধ করি এবং ক্ষুব্ধ হই।

ঘটনার আগের দিন রাতে নূর ইসলামকে নিয়ে আমি বাড়ি আসি। রাতে মিলনের জন্য নূর ইসলাম চাপ দিলে তর্কের এক পর্যায়ে তাকে ঘরের মেঝেতে ফেলে গলাটিপে হত্যা করি। এরপর লাশ বাড়ির পাশের ক্ষেতের একটি বরই গাছে ঝুলিয়ে রাখি। আমার বাবা-মা লাশ ঝুলাতে সাহায্য করেন।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত