রমজান মাস এলেই বেড়ে যায় বগুড়ার চিকন সেমাইয়ের বেচাকেনা। তাই রমজান মাসের শুরু থেকেই ব্যস্ততা শুরু হয় সেমাই তৈরির কারখানাগুলোতে। কিন্তু গত বছর থেকে সেই ব্যস্ততায় ভাটা পড়েছে। করোনা মহামারীর কারণে সেমাইপল্লীতে কর্মচাঞ্চল্য কমেছে। এ পল্লীতে উৎপাদন কাজে নিয়োজিত নারীদের মাঝে তাই চরম হতাশা। কারখানা মালিকরাও লোকসানের শঙ্কায় উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছেন।
বছরের অন্য সময়ের চেয়ে চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় প্রতি বছর রমজান মাসে জেলার দুই হাজারের বেশি চিকন সেমাই কারখানায় কাজের ধুম পড়ত। তবে গত বছর থেকেই সেমাই উৎপাদন ও বেচাকেনায় ভাটা পড়েছে, তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে লোডশেডিং।
বগুড়ার বেজোড়া, কালসিমাটি, রবিবাড়িয়া, নিশ্চিন্তপুর ও এরুলয়া গ্রামের অনেক বাড়ি এবং কারখানায় সাদা চিকন সেমাই তৈরি হয়। সাধারণত ভোর থেকে শুরু হয় সেমাই তৈরি। আর শুকানোর কাজ চলে বিকেল পর্যন্ত। তবে এবার রমজান মাসের শুরু থেকেই করোনা মহামারীর কারণে লকডাউন চলমান থাকায় বাস ও পণ্যবাহী যান চলাচল বন্ধ। ফলে বিভিন্ন স্থানে সেমাই সরবরাহ নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে দুশ্চিন্তা। এ কারণে চাহিদা অনুযায়ী সেমাই তৈরি করছেন না কারখানার মালিকরা।
এরুলিয়ার আবদুল হালিম, বেজোড়ার রফিকুল ইসলাম, ফজলুর রহমানসহ অন্যান্য কারখানা মালিকরা জানান, পুরো বগুড়া জেলা ছাড়াও ঢাকা, যশোর, খুলনা, ঝিনাইদহ, চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ সেমাই সরবরাহ করা হয়। কিন্তু গত দুই বছর ধরে সেই ব্যবসায় প্রায় ধস নেমেছে। এবার রমজানের শুরু থেকেই লকডাউন থাকায় বিভিন্ন এলাকা থেকে সেমাইয়ের জন্য মহাজনরা টাকা পাঠাতে চাইলেও কারখানা বন্ধ থাকায় তারা আগাম কোনো সরবরাহের চুক্তি করতে পারেননি। গত সপ্তাহে সীমিত পরিসরে কারখানা খোলা হলেও দূরপাল্লার পরিবহন বন্ধ থাকায় তারা জেলার বাইরে সেমাই পাঠাতে পারছেন না। রফিকুল ইসলাম বলেন, ট্রাকে করে পাঠানো সম্ভব হলেও তারা দ্বিগুণের বেশি ভাড়া দাবি করছে, ফলে শুধু জেলার মধ্যে যে চাহিদা রয়েছে তা উৎপাদন করা হচ্ছে।
অধিকাংশ সেমাই কারখানায় গ্রামের নারী শ্রমিকরা কাজ করেন। এসব কারখানায় কাজ করে তারা দিনে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা মজুরি পেতেন। সেই টাকায় ঈদের খরচ চলত তাদের। কিন্তু গত বছর থেকে ঈদ উদযাপন করতে পারছেন না তারা।
কালসিমাটি গ্রামের শ্রমিক রোকসানা বেগম জানান, আগে সারা মাস কাজ হতো, এবার ১৫ দিন পর থেকে কাজ শুরু হয়েছে। আগে প্রতিদিন যেখানে কারখানায় ৮ থেকে ১০ বস্তা ময়দার সেমাই হতো, এখন হচ্ছে ৩ থেকে ৪ বস্তা। এ কারণে তাদের মজুরিও কমে গেছে।
বগুড়া চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সহসভাপতি মাহফুজুল ইসলাম রাজ দুই বছর ধরে চিকন সেমাই উৎপাদন কমে যাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত মালিক-শ্রমিকরা দুই বছর থেকে সংকটের মধ্য দিয়ে চলছেন। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে এ মন্দাভাব কাটবে না বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
