চট্টগ্রামে বাসে নেই স্বাস্থ্যবিধি মার্কেটে উপচেপড়া ভিড়

আপডেট : ০৮ মে ২০২১, ০৪:০৫ এএম

আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম নগরীর বিভিন্ন মার্কেট ও শপিং মলে কেনাকাটার হিড়িক পড়েছে। করোনার এ সংকটময় মুহূর্তেও অনেকে বিধিনিষেধকে তোয়াক্কা না করে কেনাকাটার জন্য বেরোচ্ছেন। বিশেষ করে সরকারি নিষেধাজ্ঞার কারণে ২২ দিন গণপরিবহন বন্ধ থাকায় মার্কেটগুলোতে ক্রেতাদের তেমন একটি ভিড় ছিল না। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার থেকে গণপরিবহন চালুর পর মার্কেটগুলোতে বেড়েছে ভিড়। ক্রেতাদের মধ্যে ছিল না স্বাস্থ্যবিধি মানার বালাই।

গত বৃহস্পতিবার ও গতকাল শুক্রবার ‘যানজটের’ চিরচেনা সেই বন্দরনগরী আবারও পুরনো রূপে ফিরেছে। এতে অনেক দিন পর যানজটের কবলে পড়ে নগরবাসী। গতকাল বেলা ১১টার দিকে নগরীর বহদ্দারহাট মোড়ে গিয়ে দেখা যায়, বহদ্দারহাট মোড় থেকে নিউ মার্কেটগামী ১নং বাস ও টেম্পো এবং পতেঙ্গাগামী ১০নং বাসগুলোতে যাত্রীদের বেশ চাপ। সরকারি নির্দেশনা মেনে কয়েকটি বাসে দুই সিটে একজন যাত্রী বসলেও বেশিরভাগে গণপরিবহনে এ নির্দেশনা ছিল উপেক্ষিত। তাছাড়া বাসচালক ও হেলপারের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বেশিরভাগ যাত্রীর মাস্ক ছিল নাকের নিচে।

আগ্রাবাদ থেকে বহদ্দারহাটে আসা সালাউদ্দিন নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘বাসে দুই সিটে একজন যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। কিন্তু ঠিকই আমাদের কাছ থেকে ১০ টাকার ভাড়া ২০ টাকা নিচ্ছে। কী আর করা, না পারতে বাসা থেকে বের হতে হচ্ছে। তবুও অনেক ভালো। এতদিন ভাড়া হোন্ডায় গেছি, অনেক বেশি ভাড়া দিয়ে।’

এদিকে নগরীর চকবাজারের গুলজার টাওয়ার, মতি টাওয়ার, চক সুপার মার্কেট, বালি আর্কেড, কাজিরদেউরির ভিআইপি টাওয়ার, রিয়াজউদ্দিন বাজার, নিউ মার্কেট, হকার্স মার্কেটসহ বিভিন্ন এলাকায় গতকাল বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঘুরে দেখা যায়, দুপুর পর থেকে ক্রেতাদের আনাগোনায় মুখর ছিল মার্কেট ও শপিং মলগুলো। এ সময় ক্রেতা-বিক্রেতা অনেকের মুখে মাস্ক দেখা গেলেও বেশিরভাগই স্বাস্থ্যবিধি মানেননি। আবার অনেকের মাস্ক থুতনিতেও ঝুলতে দেখা গেছে।

নগরীর চকবাজারের ‘বালি আর্কেডের’ নিচতলায় গিয়ে দেখা যায়, ক্রেতাদের বিকিকিনিতে চারপাশ সরগরম। ইউনুস নামে এক ক্রেতা বলেন, ‘করোনায় এত লোক মারা যাওয়ার পরও আমাদের সচেতনতা বাড়ছে না। অন্তত মুখে মাস্ক পরাটা তো বাধ্যতামূলক। আমি না পারতে মার্কেটে ছেলেমেয়েদের জন্য নতুন কাপড় কিনতে আসলাম। কী করব ঈদ আসে বছরে একবার; তাই ঈদে তো নতুন কাপড় পরতেই হবে।’ নগরীর হকার্স মার্কেটে অনেক দোকানিকে মাস্ক পরতে দেখা যায়নি। মাস্ক না পরার কারণ জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, ‘ভাই সকাল থেকেই মাস্ক পরে আছি। কতক্ষণ পরা যায় একটানা। এখন ক্রেতা নেই, তাই কিছুক্ষণ খুলে রেখেছি। ক্রেতা এলে আবার পরব।’

এদিকে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে দোকান মালিক সমিতির প্রতিনিধিদের ডেকে জেলা প্রশাসন কঠোর বার্তা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. মমিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রত্যেক দোকানিকে বাধ্যতামূলক মাস্ক পরিধান করাসহ হ্যান্ড স্যানিটাইজারের ব্যবস্থা ও সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে দোকান মালিক সমিতিকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেসব শপিং মল ও মার্কেটে ক্রেতা-বিক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি মানবে না, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়া স্বাস্থ্যবিধি মানাতে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় আমাদের মোবাইল কোর্ট অব্যাহত রয়েছে। প্রতিদিনই মামলা ও জরিমানা আদায় করা হচ্ছে।’

এ প্রসঙ্গে জেলা সিভিল সার্জন ডা. সেখ ফজলে রাব্বি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এতদিন লকডাউনের কারণে লোকজন ঘরে ছিল। এতে সংক্রমণের হারও কমে ছিল। কিন্তু লোকজন যদি আবারও স্বাস্থ্যবিধি না মেনে আগের মতো বের হয়, তাহলে সংক্রমণের হার বাড়বে। এ ক্ষেত্রে বাঁচতে হলে অন্তত সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত