বাগেরহাট শহরের অধিকাংশ কাপড়ের দোকানে ঈদের কেনাকাটা করতে আসা মানুষের ভিড় লেগেই আছে। দোকানে ক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও কেউ শারীরিক দূরত্ব মানছেন না। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই দোকানগুলোতে চলছে ঈদের বেচাকেনা।
বাগেরহাট শহরের বণিকপট্টি, কাজী নজরুল ইসলাম সড়ক, মেইনরোড এলাকায় সরেজমিন এ চিত্র দেখা গেছে।
সরকার ঈদ বাজারের জন্য নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়ায় দোকানে ভিড় হচ্ছে বলে জানান ব্যবসায়ীরা। স্বাস্থ্যবিধি মেনেই দোকান পরিচালনা করা হচ্ছে বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।
করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকার সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রাখার নির্দেশনা দেয়।
গত শুক্রবার শহরের বণিকপট্টি এলাকার কাপড়ের দোকান শ্রীমা বস্ত্রালয়ে গিয়ে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় দেখা গেছে। ক্রেতাদের মুখে মাস্ক থাকলেও গা ঘেঁষাঘেঁষি করে দোকানে চলছে কেনাবেচা। বাগেরহাট শহরের অধিকাংশ তৈরি পোশাক ও কাপড়ের দোকানে একই রকম চিত্র।
শ্রীমা বস্ত্রালয়ের মালিক উত্তম সাহা বলেন, করোনায় সরকার নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে। সময়টা বেশি হলে বেচাকেনা করতে সুবিধা হতো। সময় কম হওয়ায় ক্রেতারা দোকানে ভিড় করছেন। দোকান খোলা রাখার সময় বাড়ানো হলে স্বাস্থ্যবিধি এবং শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার নিয়ম পুরোপুরি মেনে দোকানদারি করা যেত বলে মনে করেন তিনি।
ঈদের কেনাকাটা করতে আসা শহরের কোর্ট মসজিদ রোডের বাসিন্দা শামছুল হাদি বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে ঈদের কেনাকাটা করতে ক্রেতারা আগ্রহী থাকলেও দোকানগুলোতে উপচেপড়া ভিড় রয়েছে। ইচ্ছে থাকলেও স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি মেনে চলা যাচ্ছে না। ক্রেতারা স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষা করেই কেনাকাটা করছেন। এ বছর কাপড়ের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
জেলা প্রশাসক আ ন ম ফয়জুল হক বলেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে জেলায় ১৪টি ভ্রাম্যমাণ আদালত মাঠে রয়েছে। ব্যবসায়ীরা যাতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কেনাবেচা করেন সেজন্য তাদের নির্দেশনা দেওয়া আছে। যারা স্বাস্থ্যবিধি মানছেন না তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ভ্রাম্যমাণ আদালত গত ২২ দিনে চার শতাধিক মামলা করেছে। সেইসঙ্গে জরিমানাও করা হয়েছে।
