চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় ৫ ব্যাঘ্র শাবকের জন্ম: জীবিত আছে তিনটি

আপডেট : ১০ মে ২০২১, ০৮:৪৮ পিএম

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘিনী ‘পরী’ ও ‘জয়া’র ঘরে পাঁচটি শাবকের জন্ম হয়েছে। তবে এরমধ্যে তিনটি শাবক বেঁচে আছে।

বৃহস্পতিবার বাঘিনী ‘পরী’ তিনটি এবং শুক্রবার বাঘিনী ‘জয়া’ দুইটি শাবকের জন্ম দেয়।

সোমবার বিকালে এ তথ্য জানান, চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানার ডেপুটি কিউরেটর ডা. শাহাদাত হোসেন শুভ।

তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে বেঙ্গল টাইগার দম্পতি রাজ ও পরীর ঘরে জন্ম নেয় তিনটি শাবক। এরপর দিন শুক্রবার বাঘিনী জয়া জন্ম দেয় দুটি শাবকের। বর্তমানে বাঘিনী পরীর তিনটি শাবক সুস্থ আছে। তারা মায়ের দুধ খাচ্ছে। কিন্তু বাঘিনী জয়ার দুই শাবক দুধ না পেয়ে মারা যায়। গতবারের মতো এবারও জন্মের পর থেকে শাবকগুলোকে বাঘিনী ‘জয়া’ দুধ খেতে দেয়নি। মারা যাওয়া দুই শাবকের একটি সাদা বাঘ ছিল।

উল্লেখ্য এর আগেও গত ১৪ নভেম্বর বাঘিনী ‘জয়া’র ঘরে জন্ম নেয় তিনটি শাবক। পরদিন একটি এবং ১৮ নভেম্বর আরেকটি শাবক বাঘিনীর দুধ না পেয়ে মারা যায়। এরমধ্যে বেঁচে থাকা একমাত্র শাবকটিকে চিড়িয়াখানার কিউরেটর শুভ আলাদা করে রেখে যত্মে সুস্থ করে তুলেন। তার নাম রাখা হয় ‘জো-বাইডেন’।

image

প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালের ৯ ডিসেম্বর ৩৩ লাখ টাকায় কেনা ১১ মাস বয়সী একটি বাঘ এবং ৯ মাস বয়সী একটি বাঘিনীকে দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় আনা হয়। তাদের নাম দেওয়া হয় রাজ ও পরী। ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই বেঙ্গল টাইগার দম্পতি রাজ-পরীর তিনটি ছানার জন্ম হয়। যার মধ্যে দুটি ছিল ‘হোয়াইট টাইগার’, অন্যটি কমলা-কালো ডোরাকাটা। পরদিন একটি সাদা শাবক মারা যায়। অন্য সাদা বাঘিনীটি ‘শুভ্রা’। কমলা-কালো বাঘিনীটির নাম দেওয়া হয় ‘জয়া’। এই জয়া গত ১৪ নভেম্বর তিনটি শাবকের জন্ম দেয়। যার মধ্যে দুটি মারা যায়। আর বেঁচে থাকা শাবকটিকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে রেখে শিশুদের মতো ফিডারে দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে সুস্থ করে তোলে চিড়িয়াখানার কিউরেটর। বাঘ শাবকটির নাম দেয়া হয় জো-বাইডেন। বর্তমানে বাঘটির বয়স ছয় মাস। অপরদিকে সর্বশেষ ৭ মে জয়া আরও দুইটি বাঘ ছানার জন্ম দিলেও সেগুলো মারা যায়।

এর আগে ২০১৯ সালের ৩০ ডিসেম্বর বাঘিনী ‘পরী’ দুটি শাবকের জন্ম দেয়। এরমধ্যে পরদিনই একটির মৃত্যু হয়। বেঁচে থাকা শাবকটি শুরুর দিকে ইনকিউবেটরে এবং পরে তিন মাস পর্দায় ঢাকা খাঁচায় নিবিড় পরিচর্যায় রাখা হয়। সুস্থ হয়ে ওঠার পর খাঁচায় ছেড়ে দেওয়া ওই বাঘ ছানার নাম রাখা হয় ‘করোনা’। এরপর সর্বশেষ ৬ মে পরী তিনটি শাবকের জন্ম দেয়।

চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানায় বাঘ পরিবারে নতুন তিন অতিথিসহ মোট বাঘের সংখ্যা নয়টি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত