ফেনীর পরশুরামে নিখোঁজের ২৭ দিন পর মো. ইয়াছিন (২৭) নামের এক নির্মাণ শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ।
রবিবার দুপুরের দিকে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী এলাকার রাঙ্গামাটিয়া গ্রাম থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ মো. সেলিম নামে একজনকে গ্রেফতার করেছে।
সোমবার দুপুরে পুলিশ সুপার খোন্দকার নূরুন্নবী প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, নির্মাণ শ্রমিক ইয়াছিনকে খুন করা হয় ফেনী শহরের বনানী পাড়ায়। এরপর লাশ গুম করতে মাটি চাপা দেওয়া হয় ভারত সীমান্তবর্তী পরশুরামের রাঙ্গামাটিয়া এলাকায়। কষ্টি পাথর ও পেশাগত কাজের কতৃর্ত্ব নিয়েই খুন করা হতে পারে।
তিনি প্রেস ব্রিফিংয়ে জানান, রবিবার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের ৫০ গজ ভেতরে মাটির নিচ থেকে বিজিবি-বিএসএফ’র সহযোগিতায় ইয়াছিনের লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
নিহত ইয়াছিন পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের মধ্যম রাঙ্গামাটিয়া এলাকার হাসান আহমেদের ছেলে।
নিহত ইয়াছিনের বড়ভাই হারুন আহমেদ নান্টু বলেন, দীর্ঘদিন থেকে কষ্টিপাথর ও পেশাগত কিছু বিষয় নিয়ে ইয়াছিনের সঙ্গে একই এলাকার আবুল কালামের ছেলে মো. সেলিমের (৩৩) বিরোধ চলে আসছিল। বিরোধের জের ধরে ১৩ এপ্রিল শাহনাজ নামে এক নারীকে দিয়ে ফেনী শহরের বনানী পাড়ায় একটি বাসায় ডেকে এনে ৫/৬ জনে মিলে তাকে হত্যা করে। পরে লাশ গুম করার জন্য সিএনজি চালক জামালকে নিয়ে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত অভ্যন্তরে মাটি চাপা দেয়া হয়।
প্রেস ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাঈনুল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর) রবিউল ইসলাম, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আতোয়ার রহমান, সহকারী পুলিশ সুপার (ডিএসবি) খালেদ হোসেন, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ওসি এনএম নূরুজ্জামান, পরশুরাম মডেল থানার ওসি মো. শওকত হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
পুলিশ সুপার আরো জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে জিডির পর বিষয়টি ফেনীর গোয়েন্দা পুলিশ তদন্ত করে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সেলিমকে আটক করার পর ঘটনার জট খুলতে থাকে। রবিবার নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট পরশুরাম উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাসরীন আক্তারের উপস্থিতিতে ইয়াছিনের লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নিহত ইয়াছিনের ভাই রবিবার পরশুরাম মডেল থানায় বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সেলিম, এমাম হোসেন, মোশাররফ হোসেন, কুসুম, শাহনাজ ও সিএনজিচালক জামালকে আসামি করা হয়েছে।
