টানা ২০ বছর ধরে যে ভবনটিতে চাকরি করতেন রামি আলদ্রাইমলি সেই ভবনটি চোখের সামনে ধূলিসাৎ হতে দেখেছেন তিনি। গত মঙ্গলবার ইসরায়েলি ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ধ্বংস হয় গাজার বিখ্যাত আল আওকাফ ভবন। গাজার পশ্চিমাঞ্চলের পাঁচতলা এই ভবনটিতে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অফিস ছিল। অফিসগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য গাজার সবচেয়ে পুরনো মিডিয়া হাউজ মাশারেক। মাশারেকের ৪৩ বছর বয়সী নির্বাহী পরিচালক রামি আলজাজিরাকে বলেন, ‘এটা শুধু একটা কোম্পানি ছিল না। এটা ছিল একটা স্বপ্ন যেখানে আমি কাজ করেছি। আমাদের কোম্পানিতে মোট ৬০ জন কর্মী ছিল।’ ১৯৯৯ সালে প্রতিষ্ঠিত ওই কোম্পানিটি মূলত বিজ্ঞাপন ও ফটোগ্রাফিভিত্তিক কাজ করত। এ ছাড়া চলচ্চিত্র নির্মাণের সঙ্গে যুক্ত ছিল প্রতিষ্ঠানটি।
ভবনটি ধ্বংস হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মাশারেকের মূল্যবান সব উপকরণও ধ্বংস হয়ে যায়। দীর্ঘ বছরের যাবতীয় রেকর্ড ধ্বংস হয়ে যাওয়া ভবন ধ্বংসের চেয়েও বেশি ক্ষতির। গাজার তথ্য মন্ত্রণালয়ের মতে, শহরের মোট ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ ভবন ধ্বংস করেছে ইসরায়েল। ওই ভবনগুলোর পাশাপাশি ১৮৪টি আবাসিক ও বাণিজ্যিক ভবনও ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। আর এই ভবনগুলোর মধ্যে মোট ৩৩টি মিডিয়ার অফিস ছিল।
গত শনিবার এক হামলায় গাজার আল জালা টাওয়ারটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এই ভবনটিতেই ছিল আলজাজিরা ও দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের আঞ্চলিক অফিস। ইসরায়েলের দাবি, ওই ভবনে হামাসের সামরিক শাখার একটি ইউনিট অবস্থান করত। যদিও এমন দাবির পক্ষে ইসরায়েল কোনো প্রমাণ হাজির করতে পারেনি।
রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মহসিন আবু রামাদান বলেন, ‘গাজায় ভবন ও আবাসিক এলাকায় বোমা নিক্ষেপ নতুন কিছু নয়। আগের হামলাগুলোতেও আমরা এমনটা দেখেছি। কিন্তু এবার বড় পরিসরে হামলা চালানো হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং আরব দেশগুলোর নেতাদের চুপ করে থাকা ইসরায়েলকে এমন সাহস জুগিয়েছে।’
মিডিয়াগুলো ছাড়াও এবারের ইসরায়েলি হামলার টার্গেট গাজার যোগাযোগ ব্যবস্থা, বৈদ্যুতিক লাইন, পয়ঃব্যবস্থা ও পানির লাইন। তবে বাণিজ্যালয়, চ্যারিটি সেন্টার, কারখানা ও কারিগরি বিদ্যালয়গুলোকেও ছাড় দেওয়া হয়নি। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইসরায়েল এবার আগের চেয়েও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে গাজায় হামলা চালাচ্ছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হলেও গাজাকে এই ধ্বংসের ধাক্কা সামলাতে যথেষ্ট বেগ পেতে হবে। বলা হচ্ছে, এবারের হামলায় ইতিমধ্যে ৩২২ মিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে। এই পরিমাণ অর্থনীতি সচল করতে গাজাকে অনেক বছর সময় দিতে হয়েছে।
