ঝালকাঠির নলছিটিতে কাঁধে সিলিন্ডার বেঁধে করোনা আক্রান্ত মাকে মোটরসাইকেলে করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সেই ছেলে জিয়াউল হাসান টিটুকে সংবর্ধনা দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।
গতকাল বেলা ১১টায় নলছিটি উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে টিটুর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুম্পা সিকদার।
টিটুর মা রেহানা পারভীন অনুভূতি ব্যক্ত করে বলেন, আমি শিক্ষকতা জীবনে শিক্ষার্থীদের যা উপদেশ দিতাম সেই সেবাগুলোই এখন সন্তানদের কাছ থেকে পাচ্ছি। এছাড়াও টিটুকে সংবর্ধনা দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
জিয়াউল হাসান টিটু বলেন, সন্তান মায়ের জন্য করবেÑএটাই স্বাভাবিক। এতে সংবর্ধিত হওয়ার কিছু নেই। তারপরও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক স্যারসহ সরকারী ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা আমাকে ফোন দিয়ে উৎসাহ দিয়েছেন এজন্য আমি অভিভূত। আমাকে সংবর্ধনা দেওয়ায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার রুম্পা সিকদার বলেন, মাকে এবং তার সন্তানকে নিয়ে করা আজকের অনুষ্ঠানটি আমার আট বছরের চাকরি জীবনের সেরা আয়োজন। এই আনন্দটুকু সবার মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। আমি করোনাজয়ী মা ও টিটু ভাইয়ের সুস্থতা কামনা করছি।
সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নলছিটি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিদ্দিকুর রহমান, টিটুর মা করোনাজয়ী রেহানা পারভীন ও ছোট ভাই রাকিবুল হাসান ইভান, ঝালকাঠি রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি আল-আমিন তালুকদার, ঝালকাঠি প্রেস ক্লাবের সহসম্পাদক কেএম সবুজসহ স্থানীয় সাংবাদিক গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
জিয়াউল হাসান টিটু গত ১৭ এপ্রিল নিজের পিঠে অক্সিজেন সিলিন্ডার বেঁধে মোটরসাইকেলে করে করোনা আক্রান্ত মা রেহানা পারভীনকে অক্সিজেন দিয়ে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার বাড়ি থেকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন। সেদিন বিকেলে বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক থেকে তোলা মা-ছেলের হাসপাতালে যাওয়ার ছবিটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ছড়িয়ে পড়েছিল। এরপর অনেক গণমাধ্যমে খবরটি প্রচারিত হয়।
রেহানা পারভীন ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলার সূর্যপাশা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম আব্দুল হাকিম মোল্লার স্ত্রী। তিনি নলছিটি বন্দর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। তার ছেলে জিয়াউল হাসান টিটু কৃষি ব্যাংক ঝালকাঠি শাখার সিনিয়র অফিসার। বড় ছেলে মেহেদী হাসান মিঠু পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই)। ছোট ছেলে রাকিবুল হাসান ইভান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র।
