সাভারের আশুলিয়ায় যাত্রী পরিবহনকারী চলন্ত মিনিবাসে এক নারী পোশাক শ্রমিককে দল বেঁধে ধর্ষণে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন চালক সুমন। এ ছাড়া ঘটনায় জড়িত আরো পাঁচজানকে তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
রবিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম।
এর আগে শনিবার দুপুরে চলন্ত মিনিবাসে নারী পোশাক শ্রমিককে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেপ্তার ছয়জনকে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠায় আশুলিয়া থানা পুলিশ। তাদের ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নেয়া হলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোছা. সাহাজাদী তাহমিদা তিন দিন করে রিমান্ড দেন।
আশুলিয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. জিয়াউল ইসলাম বলেন, শুক্রবার রাতে চলন্ত মিনিবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। মামলা দায়েরের পর শনিবার দুপুরে পাঁচ দিনের রিমান্ড চেয়ে তাদের আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে বাসচালক সুমন (২৪) স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দেওয়ায় তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। এ ছাড়া আরিয়ান (১৮), সাজু (২০), মনোয়ার (২৪), সোহাগ (২৫) ও সাইফুল ইসলামকে (৪০) তিন দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করে আদালত। বর্তমানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
গত শুক্রবার রাতে মানিকগঞ্জের বোনের বাসা থেকে নারায়নগঞ্জে নিজ বাড়িতে ফেরার সময় নিউ গ্রাম বাংলা পরিবহনের চলন্ত মিনিবাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক নারী পোশাক শ্রমিক। পরে মহাসড়কে টহলরত পুলিশ ধাওয়া করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। এ ঘটনায় মিনিবাসটি জব্দ করা হয় এবং ভুক্তভোগী নারীকে উদ্ধার করে শনিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে পাঠানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলো ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর থানার তারাগুনা এলাকার সাজু (২০), বগুড়া জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সুমন (২৪), নারায়নগঞ্জ জেলার বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মনোয়ার (২৪), বগুড়া জেলার ধুনট থানার খাটিয়ামারি এলাকার সোহাগ (২৫) ও বগুড়া জেলার ধুপচাচিয়া থানার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০)। তারা সবাই তুরাগ থানার কামারপারা ভাসমান এলাকায় ভাড়া থেকে আব্দুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কে মিনিবাস চালাত।
