আহ্বায়ক কমিটির ২০ বছর পার

আপডেট : ৩০ মে ২০২১, ১১:০২ পিএম

২০০১ সালে গঠিত তিন মাসের আহ্বায়ক কমিটি দিয়েই চলছে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগ। নামসর্বস্ব এই আহ্বায়ক কমিটি ২০ বছর পার করায় গড়ে ওঠেনি নতুন নেতৃত্ব। তবে সম্প্রতি সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কমিটির নতুন নেতৃত্ব এসে এই ‘বুড়ো স্বেচ্ছাসেবক লীগ’ কমিটির নেতৃত্ব পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়ায় এবার নড়েচড়ে বসেছেন পদপ্রত্যাশীরা। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় নতুন প্রত্যাশীদের বায়োডাটা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি-সম্পাদক পদের জন্য ৫ শতাধিক নেতাকর্মী বায়োডাটা জমা দিয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক এইচ এম জিয়াউদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা অনেক বছর ধরে দায়িত্বে আছি। কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন কমিটি করতে উদ্যোগী ছিল না, তাই নতুন কমিটি করা সম্ভব হয়নি। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের মধ্যে ৩৫ ওয়ার্ডে কমিটি করতে পেরেছি। তবে নতুন নেতৃত্ব দরকার। স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি হওয়ার পর চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ করার পরিকল্পনা থাকলেও করোনার কারণে তা সম্ভব হয়নি। কেন্দ্রীয় কমিটি নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আগামী ১৯ জুন দিনক্ষণ ঠিক করেছে। তবে এটা হবে ভার্চুয়ালি। নগরীর ইঞ্জিনিয়ার ইনস্টিটিউট হলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভার্চুয়ালি যোগ দেবেন কেন্দ্রীয় কমিটির নবনির্বাচিত সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক।

তিনি আরও বলেন, কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনায় চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের নতুন কমিটি গঠনের লক্ষ্যে সভাপতি, সম্পাদক পদে আগ্রহী পদপ্রত্যাশীদের বায়োডাটা জমা দিতে বলা হয়েছিল। এতে ৫ শতাধিক পদপ্রত্যাশী বায়োডাটা জমা দিয়েছেন। এসব বায়োডাটা কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। তবে কমিটিতে যোগ্য ও ত্যাগী নেতারা যাতে ঠাঁই পান, সে ক্ষেত্রে সম্মেলনের মাধ্যমে কমিটি হওয়া প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি।

জানা যায়, সর্বশেষ ২০০১ সালে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অ্যাডভোকেট এ এইচ এম জিয়াউদ্দিনকে আহ্বায়ক এবং কে বি এম শাহজাহান ও সালাউদ্দিন আহমেদকে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ১৮ জনকে সদস্য করে তিন মাসের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছিল। সেই থেকে আজ অবধি এই বুড়ো কমিটি দিয়েই চলছে সংগঠনটি। অনেকটা নামসর্বস্ব কমিটি থাকলেও মাঠপর্যায়ে তেমন কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। সাংগঠনিক কার্যক্রম স্তিমিত হওয়ায় জট দেখা দেয় নতুন নেতৃত্বেরও। এতে অনেক নেতাকর্মীর মাঝে চরম হতাশা বিরাজ করে। পরে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠনের পর পুরনো কমিটি ভেঙে নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ায় পদপ্রত্যাশী নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রীয় কমিটি যখন চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের কমিটি গঠন প্রক্রিয়া শুরু করে বায়োডাটা সংগ্রহের উদ্যোগ নেয়, তখন থেকে পদপ্রত্যাশীরা কেন্দ্রে জোর লবিং ও তদবির শুরু করেন। বর্তমানে নতুন কমিটির সভাপতি-সম্পাদকসহ গুরুত্বপূর্ণ পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে সদ্য নির্বাচিত কাউন্সিলর আবুল হাসনাত মো. বেলাল, ইসলামিয়া কলেজ ছাত্রলীগ নেতা আজিজুর রহমান আজিজ, মিনহাজুল আবেদীন সায়েম, অ্যাডভোকেট তসলিম উদ্দিন, আবদুর রশিদ লোকমান, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের যুগ্ম সম্পাদক ফয়সাল বাপ্পী, সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা দেবাশীষ আচার্য্য, হেলাল উদ্দিন, আনোয়ার ইসলাম বাপ্পী, নুরুল কবির, দেবাশীষ পাল দেবু, ইলিয়াছ উদ্দিন, জসিম উদ্দিন, শাহেদ আলীসহ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের একাধিক সাবেক নেতা।

এ প্রসঙ্গে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি নির্মল রঞ্জন গুহ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এত বছরের পুরনো কমিটি দিয়ে নেতৃত্ব হয় না। তাই নতুন কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৯ জুন সম্মেলনের আহ্বান করা হয়েছে। এতে আমরা ভার্চুয়ালি যোগ দেব। ইতিমধ্যে নতুন নেতৃত্বের জন্য বায়োডাটা সংগ্রহ করা হয়েছে। এখন তো সবাই নেতা হতে চায়। সাবেক ছাত্রলীগ নেতাসহ আওয়ামী লীগের অন্যান্য সহযোগী সংগঠনের ক্লিন ইমেজের নেতার সমন্বয়ে আমরা নতুন এই কমিটি করতে চাই। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে এ কমিটি গঠন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত