নোয়াখালীতে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কিরকে বাঁচাতে কেউ এগিয়ে আসেনি উল্লেখ করে এ ঘটনায় চরম হতাশা ও অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন হাইকোর্ট।
আদালত বলেন, সংঘর্ষ চলাকালে সাংবাদিক মুজাক্কির পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় গুলিবিদ্ধ হন। তিনি সাহায্য চাইলেও কেউ তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেনি। অথচ, কিছু লোক সে সময় এ ঘটনার ছবি তুলছিল, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।
সোমবার সাংবাদিক মুজাক্কির হত্যা মামলায় জামিন চেয়ে দুই আসামি মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী ও সিরাজুল হক ওরফে আবুল হাশেমের জামিন আবেদনের শুনানি চলাকালে বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন সেলিম ও বিচারপতি মহি উদ্দিন শামীমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ দ্য বলেন, অপরাধের গুরুত্ব বিবেচনা করে হাইকোর্ট বেঞ্চ তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে নোয়াখালীতে দুই গ্রুপের ওই সংঘর্ষে এক গ্রুপের নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা এবং অন্য একটি গ্রুপ ছিল বেগমগঞ্জ উপজেলা শাখার আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমান বাদলের নেতৃত্বাধীন।
সংঘর্ষে নিহত বোরহান উদ্দিন মুজাক্কির (৩০) স্থানীয় অনলাইন পোর্টাল বার্তাবাজারের সংবাদদাতা এবং কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর ফকিরা ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঘটনার পরদিন ২৩ ফেব্রুয়ারি মুজাক্কিরের বাবা নুরুল হুদা মো. নোয়াব আলী কোম্পানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেছেন। অন্যান্য মামলায় কারাগারে থাকা মো. ইকবাল বাহার চৌধুরী ও সিরাজুল হক ওরফে আবুলকে ২৬ মার্চ মুজাক্কির হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় বলে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বশির উল্লাহ জানান।
