টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসা অবহেলায় বীর মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এতে স্বজনরা প্রতিবাদ করলে তাদের অবরুদ্ধ করে ব্যাপক মারধর চালিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ সময় হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যেতেও বাধা দেয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে হাসপাতালের ভিডিও ধারণ করতে গেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) শফিকুল ইসলাম সজিব। এ সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
মঙ্গলবার রাত ১১টার দিকে টাঙ্গাইল ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার হুগড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা নূর-ই-খোদা মঙ্গলবার সকালে হঠাৎ বুকে ব্যথা অনুভব করলে পরিবার তাকে জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যায়। এ সময় কর্তব্যরত চিকিৎসক কার্ডিওলজি বিভাগে স্থানান্তর করেন।
নূর-ই-খোদাকে পরিবার মুক্তিযোদ্ধা বলে পরিচয় দিলেও সংরক্ষিত আসন ও মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চিকিৎসা দিতে অস্বীকৃতি জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এ সময় রোগীর স্বজনদের কাছে দাবি করেন মুক্তিযোদ্ধা সনদ। ফলে তাৎক্ষণিকভাবে সনদ জমা না দেওয়ায় বীর মুক্তিযোদ্ধার স্থান হয় হাসপাতালের মেঝেতে।
চিকিৎসা সেবা না পেয়ে ক্রমেই ওই মুক্তিযোদ্ধার শারীরিক অবস্থা অবনতি হতে থাকে। পরে পরিবার বিকেলে সনদ জমা দিলে মেঝে থেকে কার্ডিওলজি বিভাগের সিসিইউ ওয়ার্ডের ২২৫ নম্বর কক্ষে তাকে স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে বারবার চিকিৎসকের কাছে সুচিকিৎসার আকুতি জানালেও কেউ তাদের সহযোগিতা করেনি। উল্টো দায়িত্বরত নার্সের কাছ থেকে সাড়ে চার হাজার টাকা দিয়ে কিনতে হয় ইনজেকশন ও স্যালাইন।
সন্ধ্যায় ইনজেকশন পুশ করার পর রাত সাড়ে সাতটার দিকে মৃত্যু হয় তার। মৃত্যুর খবরে উত্তেজিত স্বজনরা চিকিৎসা অবহেলার অভিযোগ করলে তাদের অবরুদ্ধ করে হামলা চালায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। মরদেহ নিয়ে যেতেও বাধা দেয় বলে অভিযোগ করেন তারা।
মুক্তিযোদ্ধার ছেলে ইমরান বলেন, অবরুদ্ধ অবস্থায় জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ এ ফোন করে ঘটনা অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এর আগেই অন্ততপক্ষে ১০ জনকে ব্যাপক মারধর করা হয়। দোষীদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবি করছি।
ডিবিসি ক্যামেরা পারসন আশিকুর রহমান বলেন, স্বজনদের অবরুদ্ধ করে মারধর করার ভিডিও ধারণ করতে গেলে হাসপাতালের আরএমও’র নেতৃত্বে সেখানকার দায়িত্বরা আমার ক্যামেরা ভাঙচুরের চেষ্টা করে। পরে কোনোরকমে তাদের হাত থেকে ক্যামেরা রক্ষা হয়।
হুগড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খান তোফা বলেন, ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে আমাকেও লাঞ্ছিত করা হয়। স্বজনদের মারপিট ও মরদেহ নিতে বাধা দেওয়ায় আবাসিক চিকিৎসকের শাস্তি দাবি তার।
রোগীর স্বজনদের মারধর ও অবরুদ্ধ করার নেতৃত্ব দেয়া টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম সজিব বলেন, রোগীর স্বজনরা নার্সের উপর হামলা ও হাসপাতালে ভাঙচুর চালিয়েছে।
