চট্টগ্রাম পিডিবির প্রি-পেইড মিটার স্থাপনে ধীরগতি

ভুতুড়ে বিল থেকে মুক্তি নেই ৪ লাখ গ্রাহকের

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ১১:২১ পিএম

বিদ্যুতের অপচয়, অনিয়ম ও হয়রানি কমাতে ২০১৬ সালে চট্টগ্রাম নগরীতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকাজ শুরু করলেও এখনো তা পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)। প্রকল্পের অধীনে নগরীর ১০ লাখ গ্রাহককে এই প্রি-পেইড মিটার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে মাত্র ছয় লাখ মিটার স্থাপন করা হয়। বাকি চার লাখ গ্রাহক এখনো প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত। এতে ভুতুড়ে বিদ্যুৎ বিলসহ নানাভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন এসব গ্রাহক।

প্রি-পেইড মিটারের সুবিধাবঞ্চিত বেশ কয়েকজন গ্রাহক তাদের দুর্ভোগের কথা দেশ রূপান্তরের কাছে তুলে ধরেছেন। তাদেরই একজন নগরীর বাদুরতলা বড় গ্যারেজ এলাকার মাহবুব আহমদ। তিনি বলেন, ‘আমাদের দুর্ভোগের শেষ নেই। বর্তমান মিটারে যা ইচ্ছে তাই বিল করে বিলের কপি ধরিয়ে দেয়। সেখানে দেখা যায়, মিটার রিডিং একরকম, বিদ্যুৎ বিলের কপিতে আরেকরকম। পরে এসব অভিযোগ নিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দুয়েকবার আসা-যাওয়া করতে হয়। যদি প্রি-পেইড মিটার থাকত তাহলে আমাদের এই কষ্ট হতো না। জানি না আমরা কখন পাব প্রি-পেইড মিটার। তবে আমাদের এলাকার বেশ কয়েকটি বিল্ডিংয়ে এ দুর্ভোগ থেকে বাঁচতে বিদ্যুৎ অফিসে টাকাপয়সা দিয়ে বছর দুয়েক আগে প্রি-পেইড মিটার বসিয়েছে।’

নগরীর হেমসেন এলাকার বাসিন্দা পিডিবির আরেক গ্রাহক টুম্পা চক্রবর্তী বলেন, ‘নানা তদবির করে ভবন মালিক প্রি-পেইড মিটার বসিয়েছেন। কিন্তু পাঁচ মাস পর ওই মিটারের ব্যাটারি নষ্ট হয়ে গেলে চরম বেকায়দায় পড়ে যাই। এমনকি মিটারের ওই ব্যাটারি বাজারেও পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে বিদ্যুৎ অফিসের এক কর্মচারীর সহায়তায় এ ব্যাটারি চড়া দামে কিনে লাগিয়েছি। তাই আগামীতে যে মিটারগুলো স্থাপন করা হবে, সেগুলোতে যাতে ভালোমানের ব্যাটারি দেওয়া হয়। অন্যথায় গ্রাহকদের ভোগান্তি থেকেই যাবে।’

চট্টগ্রাম পিডিবি থেকে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৬ সালের ২৮ অক্টোবর থেকে ‘প্রি-পেমেন্ট মিটারিং প্রজেক্ট ফর ডিস্ট্রিবিউশন সাউদার্ন জোন’ শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় চট্টগ্রামে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। এর অধীনে পিডিবির চারটি বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগে (নগরীর আগ্রাবাদ, স্টেডিয়াম, পাহাড়তলী ও খুলশী) প্রি-পেইড মিটার স্থাপনের কাজ শুরু হয়। ২০১৭ সালে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পের অধীনে ১ লাখ ৩৯ হাজার গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হয়। পরে নগরীর কালুরঘাট, ষোলশহর, বাকলিয়া, পাথরঘাটা, মাদারবাড়ী, হালিশহর, নিউমুরিং ও রামপুরা বিক্রয়-বিতরণ বিভাগে প্রি-পেইড মিটার স্থাপন কার্যক্রম শুরু হলেও পুরোপুরি শেষ করতে পারেনি পিডিবি কর্র্তৃপক্ষ। অর্থাৎ প্রকল্পের অধীনে ১০ লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার দেওয়ার কথা থাকলেও ছয় লাখ গ্রাহককে এসব মিটারের সুবিধা দেওয়া হয়। কিন্তু অদৃশ্য কারণে গত দেড় বছর ধরে এ মিটার স্থাপনকাজ বন্ধ থাকায় চার লাখ গ্রাহক প্রি-পেইড মিটারের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

এ প্রসঙ্গে পিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী দেওয়ান সামিনা বানু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘প্রকল্প চলমান রয়েছে। এ প্রকল্পের অধীনে ইতিমধ্যে নগরীর ছয় লাখ গ্রাহককে প্রি-পেইড মিটার সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে। বাকিরাও এ সুবিধা পাবে। মাঝখানে এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকাজ বন্ধ থাকলেও আশা করি আগামী মাস থেকে আবারও এসব মিটার স্থাপনকাজ শুরু হবে।’

এতদিন কী কারণে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকাজ বন্ধ ছিল তার সঠিক তথ্য দিতে না পারলেও চট্টগ্রাম পিডিবির এ কর্মকর্তা বলেন, ‘চট্টগ্রামের সব গ্রাহককে এই প্রি-পেইড মিটার স্থাপন প্রকল্পের আওতায় আনা হবে। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের অধীনে নগরের বিভিন্ন এলাকায় যেসব স্ট্রিটলাইট জ্বলে সেগুলোও প্রি-পেইড মিটারের আওতায় আনা হবে।’ নগরীতে প্রি-পেইড মিটার স্থাপনকাজ শেষ হওয়ার পর বিদ্যুৎ অপচয় রোধে নগরীর বাইরেও পিডিবির গ্রাহকদের একই ধরনের মিটার দেওয়ার চিন্তাভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত