তৃণমূলে ভিড়বে পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির একাংশ!

আপডেট : ০২ জুন ২০২১, ১১:৪১ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) হয়ে জয়ীদের একাংশ রাজ্যের ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেসে যোগ দিতে পারেন। ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টেই এমন তথ্য উঠে এসেছে। পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা ভোটে বিজেপির ভয়াবহ ফলাফলের তদন্ত করা কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের ২৮০ পাতার একটি গোপন রিপোর্ট ইতিমধ্যেই জমা পড়ছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের টেবিলে।

ভোটে হারের কারণ ওই রিপোর্টে বিশ্লেষণের পর আশঙ্কা প্রকাশ করে বলা হয়েছে, আগামীতে দলে ভাঙন দেখা দিতে পারে। বিজেপির বিধায়কদের একাংশ তৃণমূলে যোগ দিতে পারে। রিপোর্টে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির হারের কারণ হিসেবে একাধিক বিষয়কে সামনে আনা হয়েছে। বেশকিছু শীর্ষ নেতার নামেও উঠে এসেছে অভিযোগের তীর। বলা হয়েছে, দলবদল করে যারা বিজেপির হয়ে ভোটে প্রার্থী হয়েছিলেন তারা অধিকাংশই দুর্নীতিগ্রস্ত ও অজনপ্রিয় নেতা। যা বিজেপির মর্মান্তিক হারের অন্যতম কারণ। বিজেপি নেতাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভোটের আগে যেভাবে তারা ক্ষমতায় আসার কথা বলে আস্ফালন করে হুমকিধমকি দিয়েছেন তাতে মুসলিম ভোট ব্যাংক ভয়ে তৃণমূলের দিকে চলে যায়।

জয় শ্রীরাম ধ্বনিও ব্যাকফুটে নিয়ে গিয়েছে গেরুয়া শিবিরকে। বাংলায় রাম পূজার সেভাবে প্রচলন না থাকার কারণে বাঙালি ভোটাররা জয় শ্রীরামের সঙ্গে একাত্মবোধ করতে পারেনি। বাংলার একান্ত নিজস্ব দুর্গা বা কালীপূজার বিষয়টি পাত্তাই দেয়নি বিজেপি। এর পাশাপাশি রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ভোটের সময় আরএসএস অধিকাংশ এলাকায় নিষ্ক্রিয় ছিল। অনেক অঞ্চলে আরএসএসের সঙ্গে বিজেপির নেতাদের বনিবনা হয়নি। উল্টো তারা সংঘাতে লিপ্ত হয়েছেন।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির রাজ্য পর্যায়ের ৩০ জন শীর্ষ নেতার জীবনযাত্রা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। এ তালিকায় তৃণমূল থেকে আসা দুই নেতার নামও রয়েছে। পাশাপাশি কড়া সমালোচনা করা হয়েছে জেলা পর্যায়ের নেতাদের একাংশের বিলাসবহুল জীবন নিয়ে। বিজেপির প্রার্থীরা ভোট প্রচারে নির্বাচনী তহবিলের অর্থ ঠিকঠাক ব্যবহার করেননি, এমন অভিযোগও করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ভিনরাজ্য থেকে ব্যাপক হারে আসা কেন্দ্রীয় নেতাদের প্রচার ও সাংগঠনিক কাজে নিয়োগের কারণে পশ্চিমবঙ্গের স্থানীয় নেতাদের গুরুত্ব কমে গেছে। এসব অবাঙালি নেতাকে দিয়ে ভোট প্রচার ভাষার কারণে সাধারণ ভোটাররা ভালোভাবে বুঝতেই পারেননি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত