টাঙ্গাইলের বাসাইলে হুরমুজ আলী (৬০) নামের এক কৃষকের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, জমির বিরোধে তার আপন দুই ভাই আমজাদ, জবেদ আলী ও ভাতিজা আমিনুর রহমান আমীন এবং ফায়েজ তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার কলিয়া পূর্বপাড়া তার নিজ ঘরের ধর্নার সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত হুরমুজ আলী ওই গ্রামের মৃত চাঁন মাহমুদের ছেলে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলার কাউলজানী ইউনিয়নের কলিয়া পূর্বপাড়া এলাকার হুরমুজ আলী তার ভাইদের কাছে রাস্তার পাশে ১০ শতাংশ দাবি করে আসছিলেন। দেড় বছর আগে বিষয়টি নিয়ে আদালতে মামলা হলে হুরমুজের সাথে তার ভাই আমজাম আলী ও জবেদ আলীর বিরোধ আরও বেড়ে যায়।
একপর্যায়ে হুরমুজ আলী ঐ ১০ শতাংশ জমিতে মাটি ফেলে ঘর তৈরি করে বসবাস শুরু করেন। এরপর দফায় দফায় বিরোধকে কেন্দ্র করে বাকবিতন্ডার ঘটনা ঘটে। গত রবিবার বিষয়টি নিয়ে গ্রাম্য সালিশের আয়োজন করা হয়।
সালিশে হুরমুজ আলীর মাটি ভরাটের খরচকৃত সাড়ে ৪ লাখ টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী সোমবার আমজাদ আলী হুরমুজকে টাকা পরিশোধ করার কথা ছিল।
এর আগেই বৃহস্পতিবার নিজ ঘরের ধন্যার সাথে গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় হুরমুজের ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়। সকালে খবর পেয়ে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে।
নিহতের স্ত্রী সুরিয়া বেগম বলেন, ‘জমি ভাগাভাগির দীর্ঘদিন পর জানতে পারি সড়কের পাশে ৩০ শতাংশ কৃষি জমি ৩ ভাই আমজাদ, জবেদ আলী ও হুরমুজ আলীর নামে দলিল রয়েছে। এরপর ১০ শতাংশ জমিতে মাটি ফেলা হয়। জমিটি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাথে বিরোধ চলে আসছিল।’
‘বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন সময় আমার স্বামী হুরমুজ আলীকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিলেন আমজাদসহ তার ছেলেরা। গতকালও তারা আমার স্বামীকে হত্যার হুমকি দিয়েছিল। নতুন বাড়িতে তিনি একাই থাকতেন। আমরা পুরাতন বাড়িতে ছিলাম। এ সুযোগে তারা আমার স্বামীকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রেখেছে। আমার স্বামী হত্যার বিচার চাই।’
অভিযুক্ত আমজাদ আলী বলেন, ‘আমার বাবা জীবিত থাকতে আমাদের তিন ভাইয়ের নামে জমি ভাগ করে দিয়ে গেছেন। সেই অনুযায়ী আমরা সবাই জমি ভোগ করে আসছিলাম। প্রায় দেড় বছর আগে আমার ভোগকৃত জমি দাবি করে হুরমুজ মাটি ফেলে। গ্রাম্য মাতাব্বরদের কথা অনুযায়ী আগামী সোমবার হুরমুজকে টাকা পরিশোধ করে দিতাম। এরপর আগেই হুরমুজ অভিমানে আত্মহত্যা করেছে। আমরা তাকে হত্যা করিনি।’
বাসাইল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হারুনুর রশিদ বলেন, ‘নিহতের লাশ ঝুলন্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। পরে লাশ ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এঘটনায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।’
