‘বিডি পুলিশ’ নামে একটি গ্রুপ খুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটস অ্যাপে এক নারী পুলিশ কনস্টেবলের আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম হৃদয় খান। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে ফতুল্লা থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা করেন ভুক্তভোগী পুলিশ সদস্য। তিনি নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা এবং কক্সবাজার জেলায় কর্মরত আছেন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই নারী পুলিশ সদস্য নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার ফতুল্লার বাসিন্দা। তিনি কক্সবাজার জেলা পুলিশ লাইনসে কনস্টেবল পদে কর্মরত আছেন। হৃদয় খানের বাড়ি ঢাকার মগবাজার এলাকায়। হৃদয় ওই নারীর আত্মীয় এবং তাদের মধ্যে দুই বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক হয়। সেই সুবাদে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটসঅ্যাপে হৃদয়ের সঙ্গে ভিডিও কলে তার নিয়মিত যোগাযোগ হতো। হৃদয় তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তার সঙ্গে বিভিন্ন কথোপকথন ও আপত্তিকর কিছু ভিডিও আদান-প্রদান করে, যা হৃদয় তার মোবাইল ফোনে সংরক্ষণ করে রাখে।
মামলার এজাহারে ওই নারী পুলিশ সদস্য আরও অভিযোগ করেন, হৃদয় তার অজান্তে তার সঙ্গে কাটানো একান্ত অন্তরঙ্গ সময়ের কিছু ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও ধারণ করেছিল। পরে তাদের মধ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন শুরু হলে কৌশলে বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের মোবাইল নম্বর দিয়ে হোয়াটস অ্যাপে ‘বিডি পুলিশ’ নামে একটি গ্রুপ খোলে। সেখানে আপত্তিকর ভিডিও ও ছবি আপলোড করে এতে সামাজিকভাবে ও কর্মস্থলে সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে বলে ওই নারী পুলিশ সদস্য দাবি করেন।
মামলার এজাহারে তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২ জুন বুধবার ছুটি পেয়ে কক্সবাজার থেকে তিনি নারায়ণগঞ্জের বাড়িতে আসেন। বৃহস্পতিবার হোয়াটসঅ্যাপ চালু করে দেখেন ‘বিডি পুলিশ’ গ্রুপে হৃদয় তাদের গোপন আপত্তিকর ভিডিও ছড়িয়ে দিয়েছে। পরে তিনি পরিবারের সদস্য ও কর্মস্থলের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে থানায় মামলা করেন।
জেলা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জায়েদুল আলম জানান, মামলাটি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। রাতে মামলা দায়েরের পরই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত যুবককে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। এ ছাড়া পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
