তদন্তে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত

পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজ অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ০১:০০ এএম

জালিয়াতি ও প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. হুমায়ুন কবির মজুমদারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। গতকাল সোমবার বিকেলে দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে দুদক পাবনা আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপপরিচালক মোয়াজ্জেম হক জানান, প্রতারণা, জালিয়াতির মাধ্যমে ভুয়া আবেদন ও ভাউচার তৈরি করে অধ্যক্ষ হুমায়ুন কবীর মজুমদার নিজেই অনুমোদন করে কলেজের ছাত্র সংসদ তহবিল, উন্নয়ন তহবিল, বিবিধ তহবিল এবং ভর্তি কার্যক্রম ও ফরম ফিলাপ তহবিলের  ৫৬ লাখ ৮ হাজার ৯৮৬ টাকা অগ্রণী ব্যাংক কলেজ গেট শাখা থেকে উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন। তদন্তে বিষয়টি প্রমাণিত হওয়ায় দুদক প্রধান কার্যালয়ের নির্দেশে গতকাল এ মামলা করা হয়।

তিনি আরও জানান, কলেজটির ছাত্র সংসদের কার্যক্রম দীর্ঘদিন বন্ধ থাকলেও অধ্যক্ষ ছাত্র সংসদ তহবিল, যার হিসাব নম্বর ০২০০৫৩৫২৫৮৯ থেকে পাঁচ ছাত্রলীগ নেতা ও কর্মচারীর নামে ভুয়া বিল ভাউচার তৈরি করে ১৫টি চেকের মাধ্যমে ৫ লাখ ২ হাজার টাকা, উন্নয়ন তহবিলের হিসাব নং ০২০০০০৫৩৫২৬৫৫ থেকে কমিটির সুপারিশ ও কোটেশন ছাড়াই বিল ভাউচার করে ৩৮টি চেকের মাধ্যমে ১৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৩৮ টাকা এবং বিবিধ তহবিল যার হিসাব নং ০২০০০০৫৩৪২৮১৬ থেকে অর্থ ব্যয়সংক্রান্ত বাস্তবায়ন কমিটি না করেই ভুয়া আবেদন ও বিল ভাউচার নিজেই অনুমোদন করে ৩৭টি চেকের মাধ্যমে ১৩ লাখ ৪ হাজার ৪২ টাকা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেন। এ ছাড়া উন্নয়ন তহবিলের বেসরকারি আদায় তহবিলের দুটি হিসাব থেকে ২৮টি চেকের মাধ্যমে ১৮ লাখ ৩ হাজার ৭০৬ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ মিলেছে।

অধ্যক্ষের ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির আরও বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত চলছে। মামলার প্রয়োজনে তাকে যেকোনো সময় গ্রেপ্তার করা হবে বলেও জানান তিনি।

মামলার বিষয়ে অবগত নন দাবি করে অধ্যক্ষ ড. হুমায়ুন কবীর মজুমদার বলেন, জ্ঞাতসারে আমি কোনো অনিয়ম করিনি। দুদকের তদন্তে প্রয়োজনীয় সব নথিপত্র দেওয়া হয়েছে। মামলা হয়ে থাকলে আইনগতভাবেই বিষয়টি প্রমাণ হবে।

ড. হুমায়ুন কবীর ২০১৫ সাল থেকে পাবনা সরকারি এডওয়ার্ড কলেজের অধ্যক্ষ পদে কর্মরত রয়েছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত