গ্রাহকের গ্যাস-পানি বিলের ১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ!

আপডেট : ০৮ জুন ২০২১, ০২:২৫ এএম

২০১৮ সাল থেকে রাজধানীর মিরপুরের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম শুরু করে ওমর ফারুক (৩২)। এজেন্ট ব্যাংকিং হওয়ায় ওই প্রতিষ্ঠানে তিতাস গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের বিল প্রদান করতেন এলাকার লোকজন। মাসের পর মাস সেখানে বিল জমা দিতেন তারা। বুঝতেন যে তাদের বিল পরিশোধ হয়েছে। কিন্তু ওদিকে ঘটত অন্য ঘটনা। ব্যাংকের ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করত ফারুক। ওই টাকা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজেই আত্মসাৎ করত। আর এভাবেই গ্রাহকদের কাছ থেকে ১০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় ফারুক। এমন সব অভিযোগ পাওয়ার পর গত রবিবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রামের সীতাকু- এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ফারুক এসব অভিযোগ স্বীকার করে বলেও র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়।

গতকাল সোমবার এ নিয়ে রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৪-এর অধিনায়ক পুলিশের অ্যাডিশনাল ডিআইজি মোজাম্মেল হক জানান, ফারুক শুধু এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে ১০ কোটি হাতিয়ে নেয়নি। পাশাপাশি ‘অটুক বন্ধন’ নামে এমএলএম কোম্পানির নামে সাধারণ মানুষের টাকা আত্মসাৎ করা ছাড়াও ‘নব ক্যাশ’ নামে একটি মোবাইল ব্যাংকিং খুলে অনেক মানুষের টাকা হাতিয়ে নিয়েছে সে। গত জানুয়ারি মাসে মিরপুর এলাকায় তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ মাইকিং করে বকেয়া বিলের জন্য প্রায় দেড় হাজার গ্রাহকের গ্যাস সংযোগ বিছিন্ন করার প্রচারণা চালায়। মাইকিংয়ের পরপরই ভুক্তভোগী গ্রাহকরা ফারুকের প্রতিষ্ঠান ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স’-এর বিরুদ্ধে রাস্তায় আন্দোলনে নামে। পরে গত ২৩ জানুয়ারি ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স’সহ তিনটি অফিস তালাবদ্ধ করে ফারুকসহ তার সহযোগীরা আত্মগোপনে চলে যায়। এরপর এক ভুক্তভোগী বিষয়টি নিয়ে মিরপুর থানায় মামলা করেন।

তিনি আরও জানান, ওমর ফারুকের বাড়ি নোয়াখালী জেলার কবিরহাটের সাগরপুর এলাকায়। সে ২০০৯ সালে এসএসসি পাস করে ২০১৪ সালে ঢাকায় এসে মগবাজার এলাকায় একটি বিকাশের দোকানে চাকরি শুরু করে। ২০১৫ সালে মিরপুরের আহম্মেদনগর এলাকায় নিজে বিকাশের ব্যবসা শুরু করে। প্রতারণার উদ্দেশ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে সে বিভিন্ন ব্যাংকে ৫টির অধিক অ্যাকাউন্ট খোলে। পরে সে ২০১৮ সালে মিরপুর-২-এর ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৬০ ফিট এলাকায় ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স’ নামে একটি এজেন্ট ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পরিচালনা শুরু করে। গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে ফারুক।

এজেন্ট ব্যাংকিংয়ের অনুমোদন ছিল কি না এক প্রশ্নের উত্তরে ডিআইজি জানান, সঠিক কাগজপত্র দিয়েই ‘ইন্টার্ন ব্যাংকিং অ্যান্ড কমার্স’-এর এজেন্ট খোলা হয়েছিল। কিন্তু ফারুক ভুয়া সিল ও স্বাক্ষর দিয়ে মানুষের কাছে টাকা সংগ্রহ করত। পরে ওই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে সে নিজেই টাকা রেখে দিত। ঘটনায় কোনো ব্যাংক কর্মকর্তা জড়িত আছে কি না তা জানার চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি তিতাস গ্যাসের কোনো গ্রাহক জড়িত আছে কি না তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কেউ জড়িত হলে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত