রাজশাহীতে একদিনে আরও ১৩ মৃত্যু, লকডাউনে ফাঁকা নগরী

আপডেট : ১৩ জুন ২০২১, ০৪:০৯ পিএম

একদিনের ব্যবধানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে করোনায় মৃত্যু আবারও বেড়েছে।

রবিবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় করোনা ও উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আগের দিন যা ছিল মাত্র ৪ জন। করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকাতে রাজশাহী শহরে সর্বাত্মক লকডাউন চলছে। লকডাউনের প্রভাবে রাজশাহীর রাস্তাঘাট প্রায় যানবাহন শূন্য।

রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী জানান, রবিবার সকাল থেকে আগের ২৪ ঘণ্টায় যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ৬ জন করোনা পজিটিভ ছিলেন। অন্য ৭ জনের করোনা উপসর্গ ছিল।

নমুনা পরীক্ষার আগেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। মৃত ১৩ জনের মধ্যে ৬ জনেরই বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায়।

অন্যদের মধ্যে নওগাঁর ৩ জন, রাজশাহীর ২ জন এবং নাটোর ও কুষ্টিয়ার একজন করে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন পুরুষ ও একজন নারী। আর করোনা পজিটিভ হয়ে যে ৬ জন মারা গেছেন, তাদের ৫ জনের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও অপর একজন নওগাঁর। 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, করোনা ও উপসর্গ নিয়ে ২৪ ঘণ্টায় যে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, তাদের ৬ জনের বয়স ৬১ বছরের ঊর্ধ্বে। এ ছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছরের ২ জন, ৪১ থেকে ৫০ বছরের ৩ জন এবং ৩১ থেকে ৪০ বছর বয়সের ২ জন।

২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন ৩৫ জন করোনা রোগী, আর নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৪২ জন।

বর্তমানে হাসপাতালের করোনা ইউনিটে রোগী ভর্তি আছে ২৯৪ জন। ১০টি ওয়ার্ডে বেড সংখ্যা ২৭১টি।

করোনা ওয়ার্ডে বেডের চেয়ে রোগী ভর্তি বেশি থাকায় কোনো কোনো ওয়ার্ডে মেঝে ও বারান্দায় রোগী রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

শামীম ইয়াজদানী আরও জানান, রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের জেলাগুলোতে করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতির কারণে চাপ পড়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। প্রতিদিন করোনা আক্রান্ত রোগীরা আসছেন এখানে ভর্তি হতে। হাসপাতালের সেন্ট্রাল অক্সিজেন সমৃদ্ধ ১০ ওয়ার্ডকে করোনা ওয়ার্ডে রূপান্তরিত করেও পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

হাসপাতালের পরিচালক জানান, হাসপাতালের আরও একটি ওয়ার্ডে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সংযোগ দেয়ার কাজ চলছে। অক্সিজেন সংযোগ দেয়া শেষ হলে সে ওয়ার্ডেও করোনার রোগী ভর্তি করা হবে।

এদিকে, রাজশাহীতে একদিনে আরও ২৮২ জনের করোনা শনাক্ত হয়েছে। শনিবার রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ও রামেক হাসপাতাল ল্যাবে নমুনা পরীক্ষায় ২৩০ জনের করোনা পজিটিভ হয়। আর এন্টিজেন টেস্টে করোনা ধরা পড়ে আরও ৫২ জনের।

 এদিকে, করোনা সংক্রমণের ঊর্ধ্বগতিতে রাজশাহী নগরীতে এক সপ্তাহের সর্বাত্মক লকডাউনের রোববার তৃতীয় দিন। লকডাউনের কারণে নগরীতে ওষুধের দোকান ও কাঁচাবাজার ছাড়া সব ধরনের দোকান বন্ধ রয়েছে। বিচ্ছিন্নভাবে কিছু রিকশা ও মোটরসাইকেল চলাচল করলেও রাজশাহী নগরীর সঙ্গে সারা দেশের বাস ও ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে।

শুক্রবার বিকেল ৫টা থেকে শুরু হওয়া এই লকডাউন চলবে ১৭ জুন মধ্যরাত পর্যন্ত।

রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. আবু আসলাম জানান, নগরবাসীকে স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন মানাতে মাঠে রয়েছে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত।

স্বাস্থ্যবিধি ও লকডাউন না মানায় শনিবার এসব ভ্রাম্যমাণ আদালত ৫৭ জনকে ৩৪ হাজার ৮০০ টাকা জরিমানা করেছে।

রোববার দুপুরে লকডাউন পরিস্থিতি দেখতে নগরীর সাহেববাজার এলাকায় যান জেলা প্রশাসক আব্দুল জলিল।

তিনি বলেন, মানুষ লকডাউন কার্যকরে যথেষ্ট সহযোগিতা করছেন। দোকানপাট বন্ধ রয়েছে। পরিবহন বন্ধ। কিন্তু কিছু উৎসুক মানুষ লকডাউন দেখার জন্য রাস্তায় আসছে। এটা দুঃখজনক। তবে এসব বন্ধে জেলা প্রশাসন কঠোর ভূমিকা পালন করছে বলে জানান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত