কমলগঞ্জে চা-শ্রমিকদের দুই পক্ষের উত্তেজনা, পুলিশ মোতায়েন

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ০৪:২১ পিএম

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের ন্যাশনাল টি কোম্পানির পাত্রখোলা চা-বাগানে দখলদারি নিয়ে চা-শ্রমিকদের দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে দুই শ্রমিক আহত হয়েছেন। কাজ বন্ধ রেখে চা-শ্রমিকদের একটি অংশ চা-বাগান কারখানার সামনে দেশীয় অস্ত্র, তীর-ধনুক, দা-লাঠি নিয়ে অবস্থান করছে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ও র‌্যাব মোতায়েন করা হয়েছে। সোমবার সকাল ৮টায় এ ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত চা-বাগানে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাত্রখোলা চা-বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি গ্রুপের মধ্যে দখলদারি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সভাপতি শিপন চক্রবর্তী ও সম্পাদক দুলালের গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক গ্রুপের সঙ্গে সকল সুযোগ-সুবিধা ও কার্যক্রম পরিচালনা করার কারণে সভাপতি গ্রুপ ক্ষুব্ধ রয়েছে।

এর জের ধরেই সোমবার সকালে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এতে সভাপতি গ্রুপের নয়ন কুর্মী (৩৫) ও সম্পাদক গ্রুপের লক্ষ্মীন ধর ভৌমিক (২৮) আহত হন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।

ক্ষুব্ধ শ্রমিকদের একটি পক্ষ কারখানার গেটের ভেতরে থাকা পাগলা ঘণ্টা বারবার পিটিয়ে শ্রমিকদের একত্রিত করছে। উত্তেজিত শ্রমিকেরা চা-বাগানের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে কারখানার ভেতরে প্রবেশ করতে দিচ্ছে না।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে সহকারী পুলিশ সুপারের (কমলগঞ্জ-শ্রীমঙ্গল সার্কেল) নেতৃত্বে চার গাড়ি পুলিশ অবস্থান করছে। দুপুরে ঘটনাস্থলে র‌্যাব মোতায়েন করা হয়। তবে এ ঘটনার পর থেকে বিক্ষোভকারীদের একটি পক্ষ চা-বাগানের সমস্যাকে দায়ী করছেন।

চা-শ্রমিক শংকর কৈরী, ফুলকুমারী চাষা, অলকা গঞ্জু, পহেলা গীতা, গোলশান বিবি, রাধেশ্যাম গড় অভিযোগ করে বলেন, চা সেকশনে আমাদের নিরাপত্তার কোনো ব্যবস্থা নেই, ম্যানেজমেন্টের অনুগত লোকজন সকল সুযোগ সুবিধা ভোগ করলেও আমরা সাধারণ শ্রমিকেরা তা থেকে বঞ্চিত।

পাত্রখোলা চা-বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি শিপন চক্রবর্তী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ২০১৯ সাল থেকে এ চা-বাগানের বেশ কিছু শ্রমিকের বসতঘর জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। বৃষ্টির সময় ঘরের ভেতর বৃষ্টির পানি পড়ে। চা বাগান কর্তৃপক্ষকে ঘর মেরামতের দাবি জানিয়ে আসলেও দেখা গেছে একটি পক্ষের চা-শ্রমিকদের ঘর মেরামত করা হলেও প্রকৃত জরাজীর্ণ ঘর মেরামত ও চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না।’

অপরদিকে পঞ্চায়েত সম্পাদক দুলাল অলমিক জানান, ‘আসলে সভাপতি বহিষ্কৃত থাকায় বাগানে দায়-দায়িত্ব থেকে বঞ্চিত। সে কারণেই তিনি গ্রুপ সৃষ্টির মাধ্যমে অস্থিরতা করছেন।’

তবে ন্যাশনাল টি কোম্পানির (এনটিসি) এজিএম কাম পাত্রখোলা চা-বাগান ব্যবস্থাপক শামছুল ইসলাম সেলিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আসলে বাগান ব্যবস্থাপনার কোনো সমস্যা নয়। চা-বাগান পঞ্চায়েতের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের দুটি গ্রুপের মাঝে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ বিরোধেই পাত্রখোলা চা-বাগানে এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।’

এ বিষয়ে কমলগঞ্জ থানার ওসি ইয়ারদৌস হাসান বলেন, পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পরিস্থিতিও কিছুটা শান্ত হয়েছে। এ সমস্যার সমাধান করা হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত