সৎকারে নেই স্বাস্থ্যবিধি বাড়াচ্ছে সংক্রমণঝুঁকি

আপডেট : ১৪ জুন ২০২১, ১১:৩২ পিএম

করোনায় আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যু হলে তার দাফন বা শেষকৃত্যে বাড়তি সতর্কতা মানার নির্দেশনা থাকলেও রাজশাহী অঞ্চলে এখন এসবের কোনো বালাই নেই। গত বছর করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়াদের মরদেহ সৎকারে ব্যস্ত সময় পার করেছেন কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে রাজশাহী অঞ্চলে করোনায় মৃতের সংখ্য বাড়লেও তাদের সৎকারে ডাক পাচ্ছেন না কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মীরা। হাসপাতালে মৃতদের স্বজনরা নিজেদের মতো করে মরদেহ নিয়ে গিয়ে বাড়তি সতর্কতা পালন ছাড়াই ইচ্ছেমতো সৎকারের কাজ সারছেন। মৃতদের সৎকারে অংশ নিচ্ছেন সব পর্যায়ের মানুষ। এ ছাড়া করোনায় মারা যাওয়া রোগীর স্বজনরাও কোয়ারেন্টাইনে না থেকে চলাফেরা করছেন নিজেদের ইচ্ছেমতো। আর এসব অনিয়ন্ত্রিত কার্যক্রম ও চলাচল করোনা সংক্রমণ বাড়াতে ভূমিকা রাখছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশ রূপান্তরের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে প্রতিদিনই লম্বা হচ্ছে মৃতের তালিকা। সেখানে দিনরাত চলছে স্বজনদের আহাজারি আর কান্না। রামেক হাসপাতালের করোনা ইউনিটে শুধু ঈদের পরেই মারা গেছে ২০০-এর বেশি রোগী। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় মারা গেছে ১২ জন। হাসপাতাল থেকে এসব মৃতদের সৎকারকাজ স্বাস্থ্যবিধি মেনে করার জন্য বলা হলেও পরে এসব আর দেখার কেউ থাকে না। মৃতদের স্বজনরা নিজেদের মতো করে মরদেহ নিয়ে গিয়ে সৎকারের কাজ সারছেন। কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা বলছেন, ঈদের পর রামেক হাসপাতালে ২০০-এর বেশি রোগীর মৃত্যু হলেও একজনেরও সৎকারের জন্য তাদের বলা হয়নি।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের তথ্যমতে, তাদের ১৮ জন নারী ও ৩২ জন পুরুষ স্বেচ্ছাসেবী সদস্য রয়েছেন। এখন পর্যন্ত করোনায় মৃত ১৩০ জনের সৎকারের কাজ সম্পন্ন করেছেন তারা। এগুলো তাদের গত বছরের কাজ। চলতি বছর দেশে করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা শুরুর পর থেকে তাদের আর ডাক পড়ে না।

কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের পরিচালক কায়সার পারভেজ মেহেদী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে আমাদের আর দাফনের জন্য ডাক পড়ে না। গত বছর দেশে করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম দিকে প্রতিটি মৃত্যুর পরই আমাদের জানানো হতো। আমরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের কাজটি করতাম। এ জন্য আমাদের সব কর্মীকে ট্রেনিংও দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় লজিস্টিক সাপোর্টও দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখন আর কোনো খবরই জানানো হয় না। আমাদের খবর দেওয়া হয় না। তবে করোনায় মৃত সব লাশ দাফন স্বাস্থ্যবিধি মেনেই হওয়া উচিত।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রামেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল শামীম ইয়াজদানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা কোয়ান্টাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমেই করোনায় মৃতদের মরদেহ দেওয়ার চেষ্টা করি। কিন্তু কোনো কোনো সময় রোগীর লোকেরাও নিয়ে যাচ্ছে। যে যেভাবে বলে সেভাবেই নিয়ে যায়। আমাদের প্রতিটি ওয়ার্ডে সব জায়গাতেই কোয়ান্টামের নাম-ঠিকানা সবই দেওয়া আছে। এখনো মানুষের মধ্যে করোনা নিয়ে ভয় নেই। সবাই জানছে, মৃতদেহ তিন ঘণ্টার মধ্যে নরমাল হয়ে যায়। তিন থেকে চার ঘণ্টা পর রোগীর লোকেরাই এটি নিজেরাই নিয়ে চলে যায়। তবে সবাইকে কোয়ান্টামের নম্বর দেওয়া আছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত