রামপালে করোনায় মারা যাওয়া ব্যক্তির সৎকার করল চার মুসলমান যুবক

আপডেট : ১৮ জুন ২০২১, ১১:৫৪ পিএম

বাগেরহাটের রামপালে করোনা মারা যাওয়া নিরোদ পালের সৎকারে তার আত্মীয় ও ধর্মের লোকজন এগিয়ে না আসায় স্থানীয় চার মুসলিম যুবক তাকে সৎকার করেছেন। করোনা ভীতি উপেক্ষা করে মানবতার বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় ওই যুবকদের প্রশংসা করছেন সকলেই।

রামপাল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সুকান্ত কুমার পাল জানান, উপজেলার সদর ইউনিয়নের বেতকাটা গ্রামের নিরোদ পাল (৬৫) করোনা উপসর্গ নিয়ে গত মঙ্গলবার হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করানো হলে করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। এরপর তিনি হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে ছিলেন। সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার রাতে তার মৃত্যু হয়। হাসপাতালের পুরো সময়টা জুড়ে নিরোদের পাশে ছিলেন শুধু তার ছেলে প্রদীপ পাল। করোনায় হাসপাতালে পিতা নিরোদ মারা যাওয়ার পর কোনোভাবেই তার একার পক্ষে সৎকার সম্ভব হচ্ছিল না। তাই সৎকারের লোকের অভাবে হাসপাতালেই মৃতদেহ পড়েছিল প্রায় ১২ ঘণ্টা।

ডা. সুকান্ত কুমার পাল বলেন, পরদিন হাসপাতালে এসে দেখি নিরোদের লাশ তখনো কেউ নেয়নি। তার ছেলের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার আত্মীয় ও পরিচিত, এমনকি তার ধর্মেরও কেউ আসতে চাইছেন না করোনার ভয়ে। তার এই কথা শুনে আমি স্থানীয় খেদমতে খালফ নামক ইসলামি স্বেচ্ছাসেবক টিমকে খবর দিই এবং তাদেরকে বিষয়টি খুলে বলি। শোনার সাথে সাথে তারা নিরোদের সৎকারে রাজি হন। এরপর এসে লাশটি নিয়ে যায়। পরে ওই সংগঠনের চার মুসলমান যুবক শ্মশানে লাশটি নিয়ে সৎকার করেন।

খেদমতে খালফ’র চার সদস্য হলেন- মাওলানা হোসাইন আহমেদ, মাওলানা জুফিকার আলী, আব্দুর রহমান ও দেলোয়ার হোসাইন।

মাওলানা হোসাইন আহমেদ বলেন, আমরা গত বছর করোনা প্রাদুর্ভাব শুরু হলে এ সংগঠনটি করি। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল কেউ যদি করোনায় মারা যান, আর মৃত সেই ব্যক্তির দাফন ও সৎকারে কেউ এগিয়ে না আসলে আমরাই সেটি করব। আমাদের সেই উদ্দেশ্য নিয়ে যাত্রা শুরু করি। বুধবার যখন আমাদেরকে হাসপাতাল থেকে বিষয়টি ফোনে জানানো হয় তখনই আমরা সেখানে গিয়ে লাশ নামিয়ে ভ্যানে করে মিরাখালী শ্মশানে নিয়ে যাই। এরপর সেখানে লাশের সৎকার করি। সৎকারের সময় তার ছেলে মুখে আগুন দেয়ার জন্য উপস্থিত ছিল।

রামপাল সদর ইউপি চেয়ারম্যান মো. জামিল হাসান জামু বলেন, ভয়ের কারণে তার পরিবার, আত্মীয়-স্বজন ও এলাকার কেউ এগিয়ে না আসলেও স্থানীয় চার মুসলিম যুবক নিরোদের সৎকারের কাজটি সম্পন্ন করেছে। এটি মানবতার একটি বিরল দৃষ্টান্ত।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত