টাঙ্গাইলে প্রেমিকের প্রতারণার শিকার হয়ে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শারমিন আক্তার (২০) নামে এক কলেজছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সোমবার সকালে পুলিশ উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের খাগজানা গ্রামে ওই কলেজ ছাত্রীর নিজ বাড়ি থেকে লাশটি উদ্ধার করে মর্গে প্রেরণ করেছে।
শারমীন স্থানীয় কলেজ থেকে গত বছর এইচএসসি পাস করেন।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার করটিয়া ইউনিয়নের খাগজানা গ্রামের মনছুর আলীর কলেজ পড়ুয়া মেয়ে শারমিন আক্তারের সাথে একই এলাকার খসরু মিয়ার ছেলে সাইদুলের দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক চলে আসছিল।
একপর্যায়ে শারমিনের করটিয়া কলেজ পাড়া এলাকায় বিয়ে হয়ে যায়। বিয়ের পর থেকেই সাইদুল ফুসলিয়ে ওই স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করেন। পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে শারমিন ও সাইদুল পাচঁ বছর পূর্বে আদালতের মাধ্যমে বিয়ে করেন।
আদালতের মাধ্যমে (কোর্ট ম্যারেজ) বিয়ে করলেও সাইদুল বিষয়টি পরিবারের কাছে গোপন রাখে।
এ সময় সাইদুল ও শারমিন নিজ নিজ বাড়িতে অবস্থান করতে থাকেন।
সম্প্রতি শারমিন সাইদুলকে সামাজিকভাবে বিয়ের মাধ্যমে ঘরে তুলে নিতে চাপ দিতে থাকেন। শারমিনকে মেনে নিতে সাইদুল ও তার পরিবার অস্বীকৃতি জানায়।
একপর্যায়ে শারমিন আত্মহত্যার পথ বেছে নেয়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করে।
এ ঘটনায় শারমিনের মা পারভীন বেগম বলেন, অন্যত্র বিয়ে দেয়ার পর সে (সাইদুল) ফুসলিয়ে গোপনে পূর্বের স্বামীকে তালাক দিয়ে আমার মেয়েকে কোর্ট ম্যারিজের মাধ্যমে বিয়ে করে। তারা দু’জনে স্বামী-স্ত্রীর মতোই চলাফেরা করতো।
এ বিষয়ে ছেলের বাবা খোরশেদ আলম বলেন, প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি আমরা জানি। মেয়ে অন্যত্র বিয়ে হওয়ায় আমার স্ত্রী ওই মেয়েকে ছেলের বউ করে আনতে অনীহা প্রকাশ করে।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল লতিফ বলেন, ছেলে-মেয়ের সাথে দীর্ঘদিন প্রেমের সম্পর্ক বিষয়টি এলাকার সবাই জানে। ছেলে বিয়ে করতে অস্বীকার করায় মেয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।
করটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা খালেকুজ্জামান চৌধুরী মজনু বলেন, ঘটনার বিষয়ে আমি জানি। আত্মহত্যার বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ বিষয়ে টাঙ্গাইল সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মীর মোশারফ হোসেন বলেন, মেয়ে পক্ষ অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
