ইস্তেগফার কেন জরুরি

আপডেট : ২৪ জুন ২০২১, ১২:২৩ এএম

‘ইস্তেগফার’ শব্দের অর্থ কৃত পাপকর্মের জন্য আল্লাহতায়ালার দরবারে ক্ষমা প্রার্থনা করা। মহান আল্লাহর অসংখ্য গুণাবলির একটি হলো ক্ষমা। তিনি পরম ক্ষমাশীল, অতিশয় দয়ালু। যদি কোনো বান্দা ভুলবশত ঘোরতর কোনো গোনাহের কাজ করে এবং সেই ব্যক্তি যদি কায়মনোবাক্যে সিজদারত হয়ে তওবা-ইস্তেগফার করে আল্লাহর দরবারে ক্ষমা ভিক্ষা চায়, তাহলে আল্লাহ সেসব ইমানদারের ক্ষমা করে দেন। এ প্রসঙ্গে আল্লাহতায়ালা ঘোষণা করেন, ‘আমি অবশ্যই ক্ষমাশীল তার প্রতি, যে তওবা করে, ইমান আনে, সৎকর্ম করে ও সৎ পথে অবিচলিত থাকে।’ সুরা ত্বহা : ৮২

হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নবী হয়েও তওবা-ইস্তেগফার করেছেন। হাদিসে ইরশাদ হয়েছে, ‘আল্লাহর কসম! আমি দিনের মধ্যে ৭০ বারেরও অধিক ইস্তেগফার করি (আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই) এবং তওবা।’ সহিহ বোখারি : ৫/২৩২৪

তওবা ও ইস্তেগফার : অতীত জীবনের পাপ থেকে নিজেকে মুক্ত করে অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা বোধ করে দৃঢ়তার সঙ্গে পাপ বর্জন করার অঙ্গিকার করাকে তওবা বলা হয়। এতে ভবিষ্যতে অন্যায়ের পথে ফিরে না যাওয়ার মনমানসিকতা পোষণ করা হয়। তওবা-ইস্তেগফারে আল্লাহ খুশি হন। এটা নবী কারিম (সা.)-এর আদেশও বটে। ইস্তেগফার কখনো তওবা অর্থেও হতে পারে আবার কখনো শুধু ক্ষমা প্রার্থনার শব্দগুলো উচ্চারণ করাকে ইস্তেগফার বলা হয়। যেমন, আস্তাগফিরুল্লাহ (হে আল্লাহ! আমি ক্ষমা প্রার্থনা করছি) ।

একনিষ্ঠ তওবার কয়েকটি শর্ত : চলমান অন্যায় বর্জন করা, ঘটে যাওয়া অন্যায়ের জন্য অনুশোচনা করা, আগামী জীবনে অন্যায় না করার অঙ্গীকার করা  এবং কোনো  মানুষের হক লঙ্ঘিত হলে তা হকদারকে ফিরিয়ে দেওয়া।

পদ্ধতি : ইস্তেগফার যেকোনো শব্দের মাধ্যমে করা যায়। এমনকি, হে আল্লাহ! আমাকে ক্ষমা করে দিন’ বলে দোয়া করলেও হবে। তবে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যে বাক্যে ইস্তেগফার করেছেন, সে বাক্যে ক্ষমা চাওয়া নিঃসন্দেহে অতি উত্তম। এখানে হাদিস শরিফে বর্ণিত কিছু ইস্তেগফার দেওয়া হলো

 শুধু আস্তাগফিরুল্লাহ বলা। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) নামাজ শেষে ৩ বার আস্তাগফিরুল্লাহ বলতেন। মুসনাদে আহমদ : ২২৪০৮

 হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এই দোয়া পাঠ করবে, ‘আস্তাগফিরুল্লাহাল আজিম, আল্লাযি লা-ইলাহা ইল্লাহুওয়াল হাইয়্যুল কাইয়ুম ওয়া আতুবু ইলাইহি’ সে জেহাদের (জেহাদের ময়দান থেকে পলায়ন কবিরা গোনাহ) ময়দান থেকে পলায়ন করলেও তাকে ক্ষমা করা হবে। আবু দাউদ : ১৫১৭

 নবী কারিম (সা.) মসজিদে অবস্থানকালে একই বৈঠকে একশ’বার এ দোয়া পাঠ করেছেন এবং আমরা তা গননা করেছি, ‘রাব্বিগফিরলি ওয়াতুব আলাইয়া ইন্নাকা আনতাত তাওয়াবুর রাহিম।’ আবু দাউদ : ১৫১৬

 হজরত আবু হুরায়রা (রা.) বলেন, আমি হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর চাইতে কাউকে অধিক এই ইস্তেগফার বলতে শুনিনি, ‘আস্তাগফিরুল্লাহ ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ নাসাঈ : ১০২১৫

 ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, আস্তাগফিরুল্লাহি ওয়া আতুবু ইলাইহি।’ হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) খুব বেশি বেশি এই দোয়া পড়তেন। এমনকি রাসুলুল্লাহু (সা.) ইন্তেকালের আগেও এই দোয়া অনেকবার করেছেন। সহিহ্ মুসলিম: ৪৮৪

 তবে, সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ইস্তেগফার হলো ‘সাইয়িদুল ইস্তেগফার। তাহলো ‘আল্লাহুম্মা আনতা রাব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আনতা খালাকতানি ওয়া আনা আবদুকা, ওয়া আনা আলা আহ্দিকা, ওয়া ওয়াদিকা মাসতাততু আউজুবিকা মিন শাররি মা ছা-নাতু আবুয়ুলাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা ওয়া আবুয়ুলাকা বিজাম্বি, ফাগফিরলি ফাইন্নাহু লা-ইয়াগফিরুজ্জুনুবা ইল্লা আনতা।’ সকালে এই দোয়া পাঠকারী ওই দিন সন্ধ্যার আগে মারা গেলে জান্নাতে যাবে, আর সন্ধ্যায় পড়লে সকাল হওয়ার আগে মারা গেলে জান্নাতে যাবে। সহিহ্ বোখারি : ৬৩০৬

উপকারিতা

 অধিক ইস্তেগফারের কারণে প্রচুর বৃষ্টি বর্ষিত হয়। ফলে বাগান ও শস্য ভালো ফসল হয়। নদী-নালা থাকে জীবন্ত ও প্রবহমান।

 ইস্তেগফারকারীকে মহান আল্লাহ উত্তম সন্তান, সম্পদ ও জীবিকা দ্বারা সম্মানিত করেন।

 দ্বীন পালন সহজ এবং কর্মজীবন হয় সুখের।

 আল্লাহ ও বান্দার মধ্যে দূরত্ব মিটে যায়।

 ইস্তেগফারকারীর কাছে দুনিয়াকে খুব তুচ্ছ করে দেওয়া হয়। ফলে সে ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করতে পারে।

 মানব, জিন ও শয়তানের অনিষ্ট থেকে তাকে হেফাজত করা হয়।

  দ্বীন ও ইমানের স্বাদ আস্বাদন করা যায়।

  আল্লাহতায়ালার সন্তুষ্টি ও ভালোবাসা অর্জিত হয়।

  বিচক্ষণতা ও বিশ্বাস বৃদ্ধি পায়।

  দুশ্চিন্তা ও পেরেশানি দূর হয়।

  বেকারত্ব দূর হয়, রিজিকে বরকত আসে।

 আল্লাহর নৈকট্য অর্জিত হয় এবং তওবার কারণে আল্লাহ আনন্দিত হন।

 মৃত্যুর সময় ফেরেশতারা তার জন্য সুসংবাদ নিয়ে আসেন।

 হাশরের মাঠে মানুষ যখন প্রচণ্ড গরম ও ঘামের মধ্যে থাকবে, তখন ইস্তেগফারকারী থাকবে আরশের ছায়াতলে।

 কিয়ামতের দিন মানুষ যখন অস্থির থাকবে, ইস্তেগফারকারী তখন ডানপন্থী মুত্তাকিনদের দলে থাকবে।

  মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকা যায়।

 আরশ বহনকারী ফেরেশতারাও তার জন্য দোয়া করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত