এক শ্রমিককে চাকরি থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার লুহাইউনি চা বাগানের অন্যান্য শ্রমিকরা বিক্ষোভ করছেন। বিক্ষোভের মুখে গত মঙ্গলবার কর্র্তৃপক্ষ বাগানের সব কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
চার দিন বন্ধ থাকায় শত শত শ্রমিক দৈনিক হাজিরা ও রেশন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বাগানের কারখানা ও কার্যালয়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, লুহাউনি চা বাগানের কয়েকশ’ শ্রমিক আন্দোলন করছেন। তাদের অভিযোগ, লুহাইউনি চা বাগানের জোগালি সর্দার শ্যামল পাশীক বাগান কর্র্তৃপক্ষকে জমি না দেওয়ায় কারণ দর্শানো ছাড়াই তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে চাকরিতে পুনর্বহাল দাবিতে বাগান পঞ্চায়েত গত ৯ জুন বিভাগীয় শ্রম অধিদপ্তরে এবং ১৪ জুন বাগানের মহাব্যবস্থাপকের কাছে পৃথক আবেদন করা হয়।
এতে ৫ দিনের মধ্যে প্রতিকার না পেলে কঠোর আন্দোলনের ঘোষণা দেওয়া হয়। পূর্বঘোষণা অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার শ্রমিকরা অফিসে বাগানের কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখেন। এ ঘটনায় পরের দিন সকালে বাগানের কাজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণার নোটিস দেয় কর্র্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি অজিত করি বলেন, ‘শ্যামল পাশীকের পুনর্বহালসহ ১৩ দফা দাবিতে আন্দোলন করছি। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’
তবে বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সাধারণ সম্পাদক রবি ভূমিজ বলেন, ‘কতিপয় শ্রমিক অবৈধভাবে আন্দোলন করছেন। বাগানের ক্ষতি করে কোনো আন্দোলন সফল হবে না।’
লুহাইউনি চা বাগানের (জিএম) মাহবুব আলী বলেন, ‘শ্রমিক শ্যামল পাশীক দীর্ঘদিন বাগানের মসজিদসংলগ্ন কিছু জায়গা দখল করে রেখেছেন। মালিকপক্ষ জমিটি নিয়ে ঈদগাহ নির্মাণ করতে চাইছে। কিন্তু শ্যামল দখল না ছেড়ে অবৈধভাবে বৃক্ষরোপণ ও ঘর নির্মাণ শুরু করেন। কর্র্তৃপক্ষের কথা অমান্য করায় তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।’
কুলাউড়া থানার ওসি বিনয় ভূষণ রায় জানান, বাগানের নিরাপত্তায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আগামী ২৮ জুন শ্রমিক ও বাগান কর্র্তৃপক্ষকে নিয়ে একটি মীমাংসা বৈঠক করা হবে।
